রাজ্যপাল যাই বলুন না কেন, তাতে বিশেষ আমল না দিয়েই নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় মিছিলে সবাইকে সামিল হওয়ার জন্য আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনি প্রতিবাদ করার জন্য় টুইটারে আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। 

এ দিন সকাল থেকেও পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিভিন্ন জায়গা থেকে পথ এবং রেল অবরোধের খবর পাওয়া গিয়েছে। অনেক জায়গাতেই রাস্তা আটকে, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে জনতা। অবরোধের জেরে শিয়ালদহ- বজবজ শাখাতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।  পূর্ব মেদিনীপুরে হলদিয়া- মেচেদা রাজ্য সড়ক অবরোধ করা হয়। কলকাতার কাছে চিনার পার্ক এবং রাজারহাটে অবরোধ চলাকালীন বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। 

আরও পড়ুন- উস্কানি দেবেন না, মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলে আপত্তি জানিয়ে টুইট রাজ্যপালের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আবেদনে লিখেছেন, 'অসাংবিধানিক নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এবং এনআরসি-র প্রতিবাদে এ দিন কলকাতায় একটি বিশাল মিছিল হবে। রেড রোডে বি আর অম্বেদকরের মূর্তির সামনে থেকে বেলা একটায় মিছিল শুরু হয়ে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে শেষ হবে। সমাজের সমস্ত শ্রেণির মানুষ এসে মিছিলে এসে যোগ দিন। শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং আইন মেনে মানুষের আন্দোলনে যোগ দিন।' সোমবারের পর মঙ্গল এবং বুধবারও মিছিলে হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার মিছিল হবে যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড থেকে যদুবাবুর বাজার পর্যন্ত। আর বুধবার হাওড়া  ময়দান থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল হওয়ার কথা। তিনটি মিছিলেই তৃণমূলনেত্রী নিজে হাঁটবেন। 

 

 

এই মিছিল নিয়ে আপত্তি জানিয়েই এ দিন সকালে ফের একবার টুইটারে মুখ্যমন্ত্রীকে বার্তা দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। টুইটারে তিনি লেখেন, 'দেশের আইনের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের মন্ত্রীরা মিছিলে নেতৃত্ব দিতে রাস্তায় নামতে চলায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এটা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। বর্তমান পরিস্থিতিতে এংন অসাংবিধানিক এবং উস্কানিমূলক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য আমি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি। বরং কীভাবে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা যায়, এই সময় তার জন্য সময় বরাদ্দ করা উচিত।'

যদিও রাজ্যপালের এই আপত্তিকে যে তিনি একেবারেই নারাজ তা ফের একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। রাজ্যপালের টুইটের কয়েকঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা টুইট করে মিছিল সফল করার আবেদন জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।