মন্ত্রীরাই হাতে বন্দুক তুলে নিচ্ছে।  তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ কী? এনআরসি এবং সিএএ বিরোধী প্রচারে গিয়ে এ ভাবেই বিজেপি-কে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, 'দেশে গুলি নয়, বুলি চলবে। জনতা যা বলবে, তাই হবে।' 

বিধানসভা ভোটের জন্য এখনও এক বছরেরও বেশি সময় বাকি। কিন্তু সীমান্ত সংলগ্ন বনগাঁ এবং রানাঘাটে এ দিনই জনসভা করতে গিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। এই দু'টি কেন্দ্রেই লোকসভা নির্বাচনে হারতে হয়েছে তৃণমূলকে। বনগাঁ এবং রানাঘাটে যেমন মতুয়াদের বিশাল ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, সেরকমই প্রচুর পরিমাণে উদ্বাস্তুদেরও বাস এই সমস্ত এলাকায়। নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার পর আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই ভোটব্যাঙ্ককে পুঁজি করে বাজিমাত করতে চাইছে বিজেপি। তাই আগে থেকেই হারানো জমি পুনরুদ্ধারে নামলেন তৃণমূলনেত্রী। 

এ দিন বনগাঁ এবং রানাঘাটের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, শুধু ভোটের জন্য নয়, সারা বছরই মানুষের পাশে থাকেন তিনি। সেই কারণেই ভোট না থাকা সত্ত্বেও বনগাঁ এবং রানাঘাটে এসেছেন। এই প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি শুধু ভোটের সময় মানুষের চৌকিদার হই না।'

প্রত্যাশিতভাবেই এ দিনের দু'টি সভা  থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি-কে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এনআরসি বা সিএএ-র নামে কেউ কোনও কাগজ চাইলে দিতে বারণ করেন তিনি। তৃণমূলনেত্রীর হুঁশিয়ারি, 'বাংলায় এনআরসি করতে গেলে আমার বুকের উপর দিয়ে করতে হব।'

সম্প্রতি দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, শাহিনবাগের আন্দোলন স্থলে গুলি চলেছে। বিক্ষোভকারীদের গুলি করে মারার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। সেই প্রসঙ্গ তুলেই মমতা বলেন, 'ইচ্ছেমতো রাস্তায় গুলি চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে শুরু ককরে উত্তরপ্রদেশের  মুখ্যমন্ত্রী, সবাই গুলি চালাতে বলছেন। কিন্তু বাংলা এসবে ভয় পায় না।'

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বার বার মনে করিয়ে দেন. উদ্বাস্তুদের জমির অধিকার তিনিই পাইয়ে দিয়েছেন। ফলে এনআরসি, নাগরিকত্ব আইন করেও কেউ তাদের নাগরিকত্ব কাড়তে পারবে না বলেই আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

মমতা এ দিন অভিযোগ করেন, দিল্লি, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্য থেকে বাঙালিদের তাডিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এনআরসি-র নামে বাঙালিদের হেনস্থা হলে তিনি মেনে নেবেন না বলেও এ দিন বিজেপি-কে হুঁশায়ারি দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাঙালি তাড়ানো হলে মেনে নেব না, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দেব। ' এ দিন রাজ্য সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতাদেরও আক্রমণ করেছেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, 'আমাকে একাই সিপিএম, কংগ্রেস এবং বিজেপি-র সঙ্গে লড়তে হবে। আমার তাতে আপত্তি নেই, শুধু মা বোনেদের সমর্থন আরও চাও।'