Mamata Banerjee: শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের গণনাকেন্দ্র যখন জানান দিল, মমতা হারছেন! তখন তিনি সেখানে নেই। অনেক আগেই বেরিয়ে যান। মনে হয় বুঝতে পেরেছিলেন যে, ঠিক কী হতে চলেছে? আশেপাশে পুলিশ, ব্যারিকেড এবং বাউন্সার নিয়ে কি সবসময় ভোটে জেতা যায়? সন্ত্রাসের উত্তর দিল জনগণ। দুর্দান্ত এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করিয়ে দেখাল কমিশন। হারলেন মমতা।
Mamata Banerjee: মানুষ কারও সম্পত্তি নয়। তাই মানুষকে অস্মমান করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সেটা মনে হয় হারে হারে টের পাচ্ছেন মমতা (mamata banerjee news)। গত ১৫ বছর ধরে শাসন চালিয়েছেন এই রাজ্যে। আর সেই গত ১৫ বছর ধরে, রাজ্যের বুকে ঘটে গেছে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা। আরজি করের মতো জঘন্য ঘটনাও আমরা দেখেছি। পাশাপাশি শিল্প না আসা, চাকরির হাহাকার, সবকিছুই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় (West Bengal Election Result 2026)।
কিন্তু তারপরেও ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারবেন, সেটা বোধহয় অনেকেই কল্পনা করতে পারেননি। যে ভবানীপুরের মাটি থেকে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন তিনি, সেই মাটিতেই এবার পরাজিত হলেন। কেন তাঁকে হারতে হল ভবানীপুরে? প্রথম কথা রাজনৈতিক ইস্যু তো ছিলই। তবে তার থেকেও বড় বিষয়, ভবানীপুর এমন একটা জায়গা, যেখানে সমস্ত ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। যাদের মধ্যে একটা বড় অংশ ভোটবাক্সে মমতার বিরুদ্ধে বোতাম টিপেছেন।

ভবানীপুর থেকেই অস্তাচলে 'ব্যর্থ' মমতা?
সেইসঙ্গে, এখানে অনেকগুলি হাউজিং কমপ্লেক্স রয়েছে। সেখানকার বেশিরভাগ ভোট বিজেপির পক্ষে গেছে। তৃণমূলের বাণী শুনে কেউই সেইভাবে ভোট দেননি মমতাকে। এখন কথা হচ্ছে, আগে একটা ট্রেন্ড চলত। সমস্ত কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রার্থী। অর্থাৎ, ভবানীপুরেও সেই তিনিই সশরীরে একাধিকবার প্রচার সেরেছেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।
প্রাথমিক কয়েকটি রাউন্ডে এগিয়ে থাকলেও, শেষপর্যন্ত পরাজিত হন। পর্যদুস্ত মমতা। ২০১১ সালে, বুদ্ধবাবুকে হারিয়ে মসনদে বসেছিলেন। কিন্তু মানুষ সময় এলেই বুঝতে পারে, সঠিক আসলে কোনটা! ২০২৬ সালের ৪ মে, সেই জবাবটাই দিল বাংলা। বড় বড় হরফে প্রচার করা “বাংলা নিজের মেয়েকে চায়" স্লোগান ২০২১ সালে কাজ করলেও, ২০২৬ সালে এসে ধোপে টিকল না। এসআইআর ইস্যু কিংবা লাগাতার বিরোধীদের নিশানা করেও কোনও ফসল ঘরে তুলতে পারলেন না ‘ব্যর্থ' মমতা।
এই ভোট যেন হয়ে দাঁড়াল তৃণমূল সরকার বনাম জনতার। ভোটের স্যুইং বলছে, অন্য অনেক বিরোধী দলের সমর্থকরাও তৃণমূল সরকারের উৎখাত চেয়ে সোজা বিজেপিতে ভোট দিয়েছেন। এমনকি, তৃণমূলের নিজের পকেট ভোটও ধরে রাখা যায়নি। ফলে, বোঝাই যাচ্ছে যে, মানুষের রাগ কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছিল।

তার উপর দুর্নীতির মামলা, রাজ্যে বিনিয়োগ না আসা, চাকরির হাহাকার! সবকিছুই একসঙ্গে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় এই ভোটে। অনেকেই বলে থাকেন, হাজার হাজার তরুণ-তরুণীদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এই রাজ্যে। তিলে তিলে পিছিয়ে পড়া রাজ্যবাসী এবার ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছে। কার্যত, শিল্পের শ্মশানে পরিণত হওয়া পশ্চিমবঙ্গ ২০২৬ সালের নির্বাচনে দিল এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা।
প্রত্যাখান বাংলার! ঔদ্ধত্যের অবসান
গোটা রাজ্যে পরাজিত হল তৃণমূল। আর ঘরের মেয়ে মমতাকে হারাল ভবানীপুর। শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের গণনাকেন্দ্র যখন জানান দিল, মমতা হারছেন! তখন তিনি সেখানে নেই। অনেক আগেই বেরিয়ে যান। মনে হয় বুঝতে পেরেছিলেন যে, ঠিক কী হতে চলেছে? আশেপাশে পুলিশ, ব্যারিকেড এবং বাউন্সার নিয়ে কি সবসময় ভোটে জেতা যায়? সন্ত্রাসের উত্তর দিল জনগণ। দুর্দান্ত এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করিয়ে দেখাল কমিশন। হারলেন মমতা।
তথ্য বলছে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন মোট ৭৩,১৯৭টি ভোট। শতাংশের বিচারে ৫৩.০২। উল্টোদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,৮১২টি ভোট। অর্থাৎ, ৪২.১৯%। এই বিরাট ফারাকই পার্থক্য গড়ে দিল।
![]()
১৫,১০৫ ভোটে হারলেন ভবানীপুরেের ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের নানা প্রান্তে সভা করেছেন তিনি। ভবানীপুরেের মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তবুও মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সিঙ্গুরে শিল্প আটকে দিয়ে বুদ্ধবাবুকে রাইটার্স বিল্ডিং থেকে বের করে নবান্নে বসেছিলেন মমতা। আর বাংলার জনগণ মমতাকেই এবার নবান্ন থেকে বিতাড়িত করল। ক্লিক করল না কোনও রাজনৈতিক পরকল্পনা। ফেল করল আইপ্যাক। তিনি বিরোধী শূন্য রাজনীতি চেয়েছিলেন। উল্টে নিজেই এবার ফুরিয়ে গেলেন।
প্রত্যাখান বাংলার! ঔদ্ধত্যের অবসান, ভবানীপুর থেকেই অস্তাচলে 'ব্যর্থ' মমতা?
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।