শান্তি রক্ষার আবেদন জানানোর পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী  মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। লিখিত বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এনআরসি বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতার নামে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা বা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেবে না তাঁর সরকার। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে শুক্রবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজ্যের পরিস্থিতি। শনিবার তা চরম আকার ধারণ করে। হাওড়ার কোনা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদের কৃষ্ণপুর, প্রতিবাদের নামে পোড়ানো হয় বাস- ট্রেন। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। উন্মত্ত জনতার রোষ থেকে বাঁচছে না সরকারি, বেসরকারি সম্পত্তি। আক্রান্ত হতে হচ্ছে পুলিশকেও। 

এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী শনিবার সন্ধ্যায় ফের একবার শান্তি রক্ষার আর্জি জানিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন, 'থানা, রেল স্টেশন, বিমানবন্দর, পোস্ট অফিস, সরকারি দফতর, গণপরিবহণে যুক্ত যানবাহন সবই সরকারি সম্পত্তি। সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি উপর আক্রমণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরও পড়ুন- দুধ দেওয়া গরু কেন লাথি মারছে, বেলাগাম তাণ্ডব সামলানোই চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, 'আমরা সিএবি এবং এনআরসি-র বিরোধিতা করেছি। আবার আমার কোনওরকম হিংসা এবং বিশৃঙ্খলারও বিপক্ষে।'

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং এনআরসি- র বিরোধিতার জন্য গণতান্ত্রিক পথ বেছে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাম্প্রদায়িক কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সবাইকে আবেদন করেছেন মমতা। 

অন্যদিকে রেলের পক্ষ থেকেও শান্তি বজায় রাখার জন্য এবং রেলের সম্পত্তি নষ্ট না করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। দ্রুত যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে রেল পরিষেবা শুরু করা যায়, সেই আবেদনও করা হয়েছে রেলের তরফে।