TMC Manifesto For 2026 West Bengal Assembly Election: বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করল তৃণমূল। আজ এই ইশতেহার প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার জন্য তাঁর ১০টি ‘প্রতিজ্ঞা’ বা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন।
TMC Manifesto For 2026 West Bengal Assembly Election: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal 2026 Elections) জন্য দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করল তৃণমূল। আজ কালীঘাটে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার জন্য তাঁর ১০টি ‘প্রতিজ্ঞা’ বা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন। যার লক্ষ্য হল তাঁর সরকারের চতুর্থ মেয়াদে উন্নয়নের চাকা সচল রাখা। মমতা বলেছেন, "এই ১০টি প্রতিজ্ঞাই হবে আমার শাসনব্যবস্থার ভিত্তি এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।" ইশেতাহারে জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি, "লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ বর্গের উপভোক্তারা মাসিক ১,৫০০ টাকা (বার্ষিক ১৮,০০০ টাকা) এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) বর্গের উপভোক্তারা মাসিক ১,৭০০ টাকা (বার্ষিক ২০,৪০০ টাকা) আর্থিক সহায়তা হিসেবে পেতে থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রী এটাও জানান যে আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন বাংলার মহিলারা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি করেছি। বলেছি, সারা জীবন পাবে। যদি কেউ বলে, করব, তারা ভোটের সময় বলবে করব, তার পরে করব না। আমরা করে দিয়েছি।”
ইশতেহারে আর কী প্রতিশ্রুতি
ইশতেহার প্রকাশের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের মতোই ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি চালু থাকবে। তবে এবার তার সঙ্গে যুক্ত হবে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার প্রতিটি ব্লক ও শহরে প্রতি বছর 'দুয়ারে চিকিৎসা' শিবিরের আয়োজন করবে। ব্লক স্তরে ক্যাম্প করে সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, 'যাঁরা এতদিন এই পরিষেবা দিতেন, তাঁদের অনেককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবু কাজ থেমে থাকবে না, আরও জোরদারভাবেই চলবে। প্রবীণদের যত্ন। অনেক সময় তাঁদের সন্তানেরা বাইরে চলে যান। তাঁদের দেখার কেউ থাকেন না। তাই প্রবীণদের পাশে, যত্নের আশ্বাসে! এটাও আমাদের অঙ্গীকার।"
'বাংলার যুবসাথী' প্রকল্প চালু রাখা হবে এবং এর মাধ্যমে বেকার যুবকদের মাসিক ১,৫০০ টাকা (বার্ষিক ১৮,০০০ টাকা) আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। কৃষক পরিবারগুলিকে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদান করা হবে। ভূমিহীন কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং কৃষি ক্ষেত্রের সামগ্রিক মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩০,০০০ কোটি টাকার একটি 'কৃষি বাজেট' পেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও, বাংলার প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব একটি পাকা বাড়ি থাকবে এবং প্রতিটি বাড়িতেই নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
'বাংলার শিক্ষায়তন' কর্মসূচির আওতায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর সামগ্রিক মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। বিশ্বমানের লজিস্টিক ব্যবস্থা, বন্দর, বাণিজ্যিক পরিকাঠামো এবং একটি অত্যাধুনিক 'গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার' গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাকে পূর্ব ভারতের বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্ট করা হবে।
বর্তমানে যাঁরা বার্ধক্যভাতা পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই সহায়তা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং পর্যায়ক্রমে সমস্ত যোগ্য প্রবীণ নাগরিককে এই সামাজিক সুরক্ষাবলয়ের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ ছাড়াও, একটি সুসংহত ভৌগোলিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সাতটি নতুন জেলা গঠন এবং পৌরসভার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী।
