আলু-পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ফের কেন্দ্রকে নিশানা করলেন মমতা। নয়া কৃষি আইনের জেরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম তরতর করে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। করোনা অতিমারির আবহে মূল্যবৃদ্ধির জেরে নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ মানুষের। এই অবস্থায় কেন্দ্রের একাধিক নীতির বিরোধিতায় সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।

আরও পড়ুন-করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক মোদির, তার আগে প্রধানমন্ত্রীকে তোপ মমতার

চলতি মাসের প্রথমের দিকে বাঁকুড়া সফরে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে গিয়ে তৃণমূল সরকারকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। তার ঠিক কয়েক সপ্তাহ পরই বাঁকুড়া সফর করলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সেখানে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এরপর, বাঁকুড়ার সভা থেকে কেন্দ্রকে নিশানা করেন মমতা। আলু-পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের নয়া কৃষি আইনকেই দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। এঁরা চাষিদের সব কেড়ে নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন-কলকাতার মেয়র-প্রশাসক, রাজ্যের মন্ত্রী, জেনে নেওয়া যাক ফিরহাদের সম্পত্তির পরিমাণ

পুজো পেরিয়ে নভেম্বর মাস শেষ হতে চললেও, আলু-পেঁয়াজের দাম কমানোর কোনও নাম নেই। হাফ সেঞ্চুরির পথে কেজি প্রতি আলুর দাম। অন্যদিকে, পেঁয়াজের দামও ৭০-৮০ টাকা প্রতি কেজি। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতা বলেন, বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অগ্নিমূল্য হওয়ার পিছনে কেন্দ্রের এই কৃষি আইন দায়ী। তার মধ্য়ে অন্যতম হল অত্যাবশ্যকীয় পণ্য় আইনে সংশোধন। চাল-ডাল-আলু-পেঁয়াজের মতো খাদ্য পণ্য অত্যবশ্যকীয় পণ্য় থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এই নয়া আইনের জেরেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আলু পেঁয়াজের দাম। এঁরা চাষিদের সব কিছু কেড়ে নেবে। আলু লুটে নেবে, পেঁয়াজও লুটে নেবে। 

আরও পড়ুন-স্টেশন চত্বরে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রামপুরহাটে আতঙ্ক

শুধু তাই নয়, করোনা ভ্য়াকসিন নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে তোপ দেন মমতা। কেন্দ্র ভ্যাকসিন তৈরি করতে না পারলে, রাজ্যকে বলুন, আমদের বলে দিন কোথা থেকে কী করতে হবে। আমরা নিজেরাই ভ্যাকসিন তৈরি করে নেব। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীদের। তার আগের দিনই সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করলেন মমতা।