মাঝে কয়েক দিনের বিরতি। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ফের পথে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম থেকে বারাসতের কাছারি ময়দান পর্যন্ত মিছিলে হাঁটলেন তিনি, বাজালেন কাঁসর-ঘণ্টা। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, দেশজুড়ে নাগরিকত্ব আইন লাগু করার মতো কেন্দ্রের অমানবিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মানবিক প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। আইনটি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবে।  আগামী শুক্রবার থেকে কলকাতায় রানী রাসমনি রোডে ধরনা কর্মসূচি শুরু করছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। সেকথাও ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সিএএ ইস্যুতে কেন্দ্রে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে জোট বাঁধছে বিরোধীরা। কিন্তু সেই জোট সামিল হতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাগরিকত্ব আইনে বিরুদ্ধে একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আগামী ১৩ জানুয়ারি দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধী ডাকা বৈঠকেও অংশ নেবে না তৃণমূল কংগ্রেস।  বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রামে জনসভা থেকেও বনধ দিয়ে বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন ,'CAA বিরোধী আন্দোলনের নামে কেউ কেউ তাণ্ডব চালিয়েছে। বাসে, ট্রেনে আগুন ধরিয়েছে। পুলিশের গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। এসব বরদাস্ত করা যায় না। ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে কেউ কেউ। আন্দোলনে কোনও রাজনৈতিক ভেদাভেদ থাকবে না। সঠিক পথে, শান্তিপূর্ণভাবে তা করতে হবে। বাংলায় CAA-NRC বিরোধিতার কথা সারা দেশ জেনেছে।”

এদিকে আবার নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এ রাজ্যে মতুয়াদের সঙ্গেও তৃণমূল নেতৃত্বের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে।  এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'মতুয়ারা আগে থেকে ভারতের নাগরিক। তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নাম করে ভুল বোঝানো হচ্ছে।  কেন আলাদা করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে?' তাঁর আরও বক্তব্য, নতুন আইন অনুযায়ী, এনপিআর-এর ফর্ম ফিলাপ ভরতে গেলে মায়ের জন্মতারিখ,সার্টিফিকেট লাগছে। কিন্তু কতজনের কাছে মায়ের জন্ম সার্টিফিকেট রয়েছে!'  উল্লেখ্য, সিএএ ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলনকে রাজ্যে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক দিন আগেই শিলিগুড়িতে মিছিল ও জনসভা করেন তিনি, মিছিল করেছেন জঙ্গলমহলেও।