বৃহস্পতিবার অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। গত এপ্রিলে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদে নির্বাচিত হন। মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলে যে ভাঙন দেখা দিয়েছে, তার জেরে পদত্যাগ করা তৃণমূলের চতুর্থ রাজ্যসভা সাংসদ হলেন কোয়েল মল্লিক।

বৃহস্পতিবার অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। গত এপ্রিলে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদে নির্বাচিত হন। মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলে যে ভাঙন দেখা দিয়েছে, তার জেরে পদত্যাগ করা তৃণমূলের চতুর্থ রাজ্যসভা সাংসদ হলেন কোয়েল মল্লিক। এর আগে পদত্যাগ করা সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বারাইক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই তাঁদের ছেড়ে যাওয়া তিনটি আসনের নির্বাচনে বিজেপি এই তিনজনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে।

কোয়েল মল্লিক ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি একবারও সংসদের অধিবেশনে যোগ দেননি। মল্লিক রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপ-রাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ইস্তফার চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন যে, অবিলম্বে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, "রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে আমার কার্যকালে যে সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি মহামান্য চেয়ারম্যান, মাননীয় ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং রাজ্যসভা সচিবালয়ের সকল আধিকারিকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।" এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন, যা তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

মমতা কী বললেন

এদিকে, কোয়েলের পদত্যাগ নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তিনি দাবি করেন, কোয়েল আগেই মেল করে জানিয়েছেন ইস্তফার কথা। তিনি বলেন, “আজ আর একজন সাংসদ, তিনি ভাল শিল্পী, আমি তাঁকে সম্মান করি...বিজেপি-র কোনও একটা নেতার সঙ্গে মিটিং করে রিজাইন করতে গিয়েছেন তিনি। আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলি, উনি আগেই ইমেল পাঠিয়েছিলেন। থ্যাঙ্কস টু হার। আজ ফিজিক্যালি জমা দিতে গিয়েছেন। আমার দলকে কালিমালিপ্ত করতে দেব না। ২১ জুলাইয়ের আগে যার যেখানে ইচ্ছা চলে যান। পুলিশ, সিবিআই, ইডি-র হাত থেকে বাঁচতে যেখানে খুশি চলে যান। বিজেপির কথায় যারা দল ছাড়ছেন তাঁরা চলে যান। যাদের যাওয়ার ২১ জুলাইয়ের আগে চলে যান। দিন বদলেছে, তাই ভয় দেখাচ্ছে। সবটাই সাময়িক। আপনারা পরিবারকে, নিজেদের বাঁচান। এই জন্যই তো বিজেপির প্যাকেজ।”

মমতার আরও যোগ, "আরও একধাপ এগিয়ে মমতা বলেন, "আজ যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁরা কিন্তু গোপনে আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। কেউ কেউ ভয় সহ্য করতে পারে না। কেউ আত্মরক্ষা করতে পারে, কেউ পারে না। আমরা মাথা নীচু করে চলি না বলেই ফেস করতে হচ্ছে। ফেস করতে না শিখি যদি, বাংলাকে, দেশকে যদি ভালোবাসতে না শিখি, মানুষের রায়কে যদি সম্মান না জানাই, তাহলে আত্মগ্লানিতে ভুগব। যা করেছেন, ভালো করেছেন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, পরিবার ভালো থাক। ২১ জুলাই নতুন করে পথ চলা শুরু হবে। তাতে কে এল, কে না এল. কিছু যায় আসে না। যারা থাকবে, তারাই স্বর্ণখনি। আগামীতে নতুন করে পথ চলা শুরু হবে। ১৯৯৭ সালে যদি নতুন করে পথ চলতে পারি, ২০২৬ সালেও পারব। অনেক ছলনা করেছে...নাম-নিশান কোনওটাই নাকি রাখবে না! আপনারা ভালো থাকুন, নিজেদের রক্ষা করুন, দিল্লিটা আগে রক্ষা করুন, তবে তো পারবেন! দিল্লির মদতে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। মনে রাখুন, যতই জোর করে সাংসদ কিনুক বা বেচুক, আগামী দিনে...আমরা দেশের সঙ্কট চাই না। কিন্তু অর্থনীতিবিদরাই বলছেন, মানুষ বলছেন। অনেক নাম বদলেছে, সিম্বল বদলেছে। ক্ষমতার জোরে নাম চেঞ্জ করতে পারেন, ভিসন, মিশন শেষ করতে পারেন না।"

তৃণমূলের হাতে এখন ৯ জন রাজ্যসভা সাংসদ

কোয়েলের পদত্যাগের পর তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে রাজ্যসভায় এখন নয়জন সাংসদ রইলেন। দলটি একই সঙ্গে সংসদের উভয় কক্ষ এবং রাজ্য বিধানসভায় সদস্য-ত্যাগের সমস্যার মোকাবিলা করছে। তাদের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত 'ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া'-তে যোগ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে তাঁরা এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন করছেন। বিদ্রোহী সাংসদদের গোষ্ঠী লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তাঁদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করারও অনুরোধ জানিয়েছে। বিধানসভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলের ৬০ জন বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন এবং নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করেছেন।

লোকসভা ও রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিজেপির প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর করার আগে সংসদীয় আসনগুলির পুনর্বিন্যাস বা 'ডিলিমিটেশন' সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনী বিলটি পাস করানোর লক্ষ্যে বিজেপি পুনরায় উদ্যোগী হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিলে সংসদে এই বিলটি পাস করানোর সরকারি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।