চার ধাম যাত্রা শুরুর আগেই ঋষিকেশে রান্নার গ্যাসের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকরা বাধ্য হয়ে কাঠ, কয়লা বা ঘুঁটের আঁচে রান্না করছেন। এতে একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, তেমনই পর্যটকদের ভোগান্তির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার ৩৫ দিন কেটে গিয়েছে। এর প্রভাব এখন ভারতের বিভিন্ন শহরেও পড়তে শুরু করেছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে ভুগছে বহু জায়গা। চার ধাম যাত্রার ঠিক আগে উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশও এই গ্যাস সংকটের শিকার।

এই সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা লেগেছে হোটেল-রেস্তোরাঁর ব্যবসায়। গ্যাস না পেয়ে হোটেল মালিক থেকে শুরু করে রাস্তার ধাবার মালিকরা—সবাই বিপদে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে তাঁরা কাঠ এবং কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে কোনওমতে কাজ চালাচ্ছেন। কিন্তু এভাবে রান্না করা বেশ ঝামেলার।

বিবেক তিওয়ারি নামে এক স্থানীয় রেস্তোরাঁর মালিক জানালেন, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে তাঁদের কাঠ-কয়লা জ্বালিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। তিনি এএনআই-কে বলেন, "ঋষিকেশের রেস্তোরাঁগুলো এখন কাঠ-কয়লা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। চার ধাম যাত্রা শুরু হতে চলেছে, তাই সরকারের এবং গ্যাস এজেন্সিগুলোর উচিত তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে স্বচ্ছ থাকা। যদিও কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের জোগান কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু রোজকার চাহিদা মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়।"

তবে ঋষভ নামে আরেক রেস্তোরাঁ মালিক এই গ্যাস সংকট নিয়ে আরও বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কমার্শিয়াল কানেকশন থাকা সত্ত্বেও গ্যাসের জোগান প্রায় নেই বললেই চলে। তাই তাঁকেও কয়লা আর উনুন ব্যবহার করে রান্নাঘর চালু রাখতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, গ্যাস এজেন্সিগুলো কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের চাহিদা মেটাতে পারছে না।

ঋষভ বলেন, "গ্যাসের জোগান নিয়ে মারাত্মক সমস্যা চলছে, আমরা গ্যাস পাচ্ছিই না। রেস্তোরাঁ চালানোর জন্য আমাদের কয়লা আর উনুন আনতে হয়েছে। কমার্শিয়াল কানেকশন থাকলেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এজেন্সিগুলো তো হাত তুলে দিয়েছে, সাপ্লাইয়ের কোনও সম্ভাবনাই নেই বলছে। আমরা গত ১৫-২০ দিন ধরে এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।"

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, "এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে হয় আমাদের রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে হবে, নয়তো ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখতে খাবারের দাম বাড়াতে হবে। এর ফলে চার ধাম যাত্রাতেও খারাপ প্রভাব পড়বে।"

এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি ইনফরমাল গ্রুপ অফ মিনিস্টার্স (IGoM)-এর দ্বিতীয় বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, এই 'অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে' ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো দরকার। যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের প্রভাব যাতে দেশের মানুষের উপর ন্যূনতম পড়ে, তা নিশ্চিত করতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখা যাবে না।