বর্ধমানে ফের এনআরসি আতঙ্কে মৃত্যু।  শুক্রবার সকালে কালনায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন মারা যান এক ব্যক্তি। পরিবারের লোকেদের দাবি, গত বেশ কয়েকদিন ধরেই এনআরসি নিয়ে আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি।  এদিকে আবার উত্তর দিনাজপুরে ভোটার কার্ডের তথ্য সংশোধন করাতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক ব্যক্তি। 

আরও পড়ুন: 'অনুপ্রবেশকারী চলবে না', পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন সরকারি চাকুরে পাত্রের

মৃতের নাম লিয়াকৎ আলি। বাড়ি, কালনার পূর্বস্থলী নাকাদহ গ্রামে। লিয়াকতের আশঙ্কা ছিল, এ রাজ্যে যদি এনআরসি লাগু হয়, তাহলে তাঁকে ভিটেমাটি ছাড়তে হবে। অন্তত তেমনই দাবি পরিবারের লোকেদের। বাড়ির লোকেদের বক্তব্য, গত কয়েকদিন ধরে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য গ্রামের লোকেদের নথিপত্র দেখাচ্ছিলেন লিয়াকৎ। বৃহস্পতিবার রাতেও বাড়ি ফিরে নথিপত্র ঘেঁটে দেখেন তিনি। শুক্রবার সকালে আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হন লিয়াকৎ এবং মারা যান। ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে এলাকায়। উল্লেখ্য , দিন কয়েক আগে বর্ধমানের কাটোয়ায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হৃদরোগে আক্রান্ত মারা যান দুই বৃদ্ধ। সেবারও এনআরসি আতঙ্কের অভিযোগ তুলেছিলেন পরিবারের লোকেরা। আউশগ্রামে একই কারণে আরও একজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

আরও পড়ুন: বিক্ষোভের জেরে দশ দিন বন্ধ রাধিকাপুর এক্সপ্রেস, চরম সমস্য়ায় রায়গঞ্জবাসী

স্রেফ বর্ধমানেই নয়, এনআরসি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে উত্তর দিনাজপুরেও।হেমতাবাদের আশমানহাট গ্রামের থাকেন সইফুর রহমান। মঙ্গলবার সকালে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।  গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সইফুল ভর্তি রায়গঞ্জ গর্ভমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে। পরিবারের লোকেদের দাবি, ভোটার কার্ডে নামে ভুল আছে। বহু চেষ্টা করেও তা সংশোধন করতে পারেননি সইফুল। এনআরসি নিয়ে আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি।মঙ্গলবার সকালে যখন জমিতে কাজ করছিলেন, তখন বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সইফুর। ঘটনাটি নজরে পড়ে যাওয়ায় বাড়িতে খবর দেয় তাঁর ছেলে। সইফুর প্রথমে হেমতাবাদ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পরে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় রায়গঞ্জ গর্ভমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।