কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের পাঁচ বছরের ওলি কুণ্ডুর গান। এবার ওই জেলা থেকে খোঁজ মিলল আরও এক বিস্ময় শিশুর। তবে গান নয়, একুশ মাসের ছোট্ট ময়ুখের স্মৃতিশক্তি দেখেই অবাক এলাকাবাসী। ঠিকমতো কথা না ফুটলেও সাধারণ জ্ঞানের খুঁটিনাটি তার ঠোঁটস্থ। 

আরও পড়ুন- সাত দিনে আড়াই কোটি ভিউ, পাঁচ বছরের ওলির গান ইউটিউবে ভাইরাল, দেখুন ভিডিও

এই বিস্ময় শিশুকে দেখতেই এখন চোপড়ার দাসপাড়ায় রাজু বর্মণের বাড়িতে ভিড়। একুশ মাসের শিশুই অনায়াসে বলে দিতে পারে দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সব রাজ্যের রাজধানীর নাম। জাতীয় ফল, প্রাণী হোক বা জাতীয় পতাকার রং, সবই জিজ্ঞাসা করা মাত্র বলতে পারে সে। শুধু বয়সের কারণে এখনও উচ্চারণ স্পষ্ট নয় বলে উত্তরগুলি কিছুটা অস্পষ্ট শোনায়। 

আরও পড়ুন- এবার ছোট্ট ওলির গলায় শুনুন 'লাভ ইউ জিন্দেগি', দেখুন ভিডিও

শিশুটির মা বীণা বর্মণ এবং বাবা রাজু বর্মণের দাবি, মাত্র পনেরো মাস বয়স থেকেই আশপাশে যা শুনত, তা মনে রাখতে পারত ময়ুখ। অষ্ফুটে তা বলারও চেষ্টা করত সে। কিছুদিন পর থেকে ছেলেরই এই আশ্চর্য ক্ষমতার বিষয়ে ময়ুখের বাবা মা নিশ্চিত হন। ধীরে ধীরে বিষয়টি প্রতিবেশীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। 

ময়ুখের বাবার ছোট একটি দোকান রয়েছে। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের বোর্ডে লেখালেখি করেই সংসার চালান তিনি। ছেলের প্রতিভা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'এখন ও দেশ, বিদেশের বিভিন্ন জায়গার রাজধানীর নাম বলতে পারে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নামও বলে দেয়। এমন কী, আমরা ওকে পুজোর মন্ত্র শিখিয়েছিলাম, সেটাও ওর মনে আছে। আমি জীবনে খুব বেশি কিছু করতে পারিনি, কিন্তু আমি চাই এই প্রতিভার জোরে ময়ুখ অনেক বড় হোক।'

মাত্র একুশ মাস বয়সে এখনও বই, খাতা বা কলমের সঙ্গে পরিচয় হয়নি ময়ুখের। কিন্তু সুযোগ পেলেই খেলাচ্ছলে সাধারণ জ্ঞানের নানা টুকিটাকি বিষয়ে ময়ুখের কানে তুলে দেন তার মা। আশ্চর্য ক্ষমতার বলেই তা মনে রাখতে পারে ওই শিশু। 

২০১১ সাল নাগাদ এমনই এক বিস্ময় শিশুর খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল হরিয়ানায়। কৌটিল্য পণ্ডিত নাম পাঁচ বছর বয়সি ওই শিশুটি ভুগোল, রাজনীতি-সহ নানা বিষয় সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর অনায়াসে দিতে পারত। 'গুগল বয়' নামে বিখ্যাত হয় সে। প্রাক্তন রাষ্টপতি এপিজে আব্দুল কালামও কৌটিল্যের প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। রায়গঞ্জের ছোট্ট ময়ুখও এখন সারা দেশের নজর কেড়ে নেওয়ার অপেক্ষায়।