সংক্ষিপ্ত

ছোটবেলা থেকেই এলাকায় মেধাবী ছাত্র বলে পরিচিত ছিল সোমনাথ। মাধ্যমিকে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৯৩ শতাংশ।

তরুণ সমাজে আত্মহননের পরিমাণ যেন দিনেদিনে বেড়েই চলেছে। এদিকে লকডাউনের জেরে প্রায় দু-বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ স্কুল-কলেজ (School-College)। যার জেরে অবসাদ (Mental exhaustion) বেড়েছে পডুয়াদের মধ্যে। এবার এরইমধ্যে আচমকা আত্মহত্যার পথে বেছে নিল শিলিগুড়ির এক দ্বাদশ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র (Meritorious student of class XII)। এমনকী আত্মহত্যার সময় বোর্ডে লিখে রেখে গেল, 'মা আই কুইট' যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘‌মা, আমি সরলাম।’‌ ঘর থেকে উদ্ধার হল তাঁর ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল শিলিগুড়িতে (Suicide গল Siliguri)। ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ি জ্যোতিনগরে। পুলিশ সূত্রে খবর, শিলিগুড়ির বাসিন্দা এই ছাত্রের নাম সোমনাথ সাহা(‌১৮)‌। শিলিগুড়ি বয়েজ স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল সে।

এদিকে ছোটবেলা থেকেই এলাকায় মেধাবী ছাত্র বলে পরিচিত ছিল সোমনাথ। মাধ্যমিকে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৯৩ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিকেও ভালো ফল করে স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করে পরবর্তীতে জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার। কিন্তু অধরা থেকে গেল সেই স্বপ্ন। এদিকে প্রায় দুবছর ধরে বাকিদের মতো বাড়িতে বসেই চলছিল পড়াশোনা। তবে ছোট থেকেই অঙ্ক পাগল ছিল সে। তার বন্ধুদের অনেকেই জানিয়েছেন, অঙ্ক সোমনাথের খুব প্রিয় ছিল। কোনও অঙ্কের সমাধান করতে না পারলে বেশ বিরক্তই হত সে। এদিকে আত্মহত্যা করার আগে একটা অঙ্কও কষে গিয়েছিল সোমনাথ। তার ঘরে বিছানার উপর রাখা সাদা রঙের বোর্ডটা সেই কথাই বলছে। সেই অঙ্কের নীচেই মাকে উদ্দেশ করে লেখা— ‘মা আই কুইট।

আরও পড়ুন-অতিথিনিবাসে পেট্রোল নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা যুবতীর, সল্টলেক বিস্ফোরণে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরও পড়ুন-স্কুল-কলেজ খোলার দাবিতে বিকাশ ভবনে শুভেন্দু-অগ্নিমিত্রারা, ১৪৪ ধারা জারি করে পথ আটকাল পুলিশ

তবে মাঝেমাঝেই যে সে একটু মানসিক অবসাদে ভুগত, সেকথা বলেছে বন্ধু-বান্ধবেরাো। তবে ছোট থেকেই মাকে খুব ভালবাসত সোমনাথ। তাই হোয়াইট বোর্ডে মাকে উদ্দেশ্য করে লিখে আত্মহত্যা করেছে সোমনাথ বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরেও বাড়ির সবার সঙ্গে সময় কাটায় সোমনাথ। তারপর উঠে গিয়ে নিজের ঘরে পড়াশোনা করছিল। এমনটাই জানিয়েছেন সোমনাথের বাবা। কিন্তু তারপরেও কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছেন না কেউই। ওইদিন বিকেল নাগাদ সোমনাথের ঠাকুরমা নাতির ঘরে ঢুকতেই দেখেন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে সে। চিৎকার চোঁচামেচিতে সোমনাথের বাবা-মা ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষেই ইহলোক ছেড়ে পরলোকের পথে যাত্রা করেছে এই মেধাবী চাত্র। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা এবং পরিবার।

আরও পড়ুন- স্কুল-কলেজ খোলার দাবিতে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে আন্দোলন, ABVP-SFI-র জোড়া মিছিলে উত্তপ্ত কলেজ স্ট্রিট