লকডাউনের মাঝে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন ভিনরাজ্যের একদল শ্রমিক। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেটে দিয়েছে একমাস। এখনও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে ছাড়া পাননি তাঁরা! ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নবদ্বীপে।

আরও পড়ুন: করোনার গ্রাসে শ্বশুর-স্বামী, অদম্য সাহসে সন্তানের জন্ম দিল কোভিড পজিটিভ নাজমা

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছুরি-কাঁচি শান দেওয়ার কাজ করেন তাঁরা। লকডাউনের আগেই ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ থেকে নদিয়ার মুরাগাছি এলাকায় চলে আসেন ষোলোজন। কতদিন আর আটকে থাকবেন! শেষপর্যন্ত মুরাগাছা থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কিন্তু শেষরক্ষা আর হল কই! নবদ্বীপ স্টেশনের লাগোয়া গৌরাঙ্গ সেতুর কাছে যখন পৌঁছন, তখন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান সকলেই। তাঁদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় নবদ্বীপ যুব আবাসে, কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। 

 জানা গিয়েছে, ওই ১৬ জনের কারওই সন্দেহজনক উপসর্গ পাওয়া যায়নি, মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে কোয়ারেন্টাইনেরও। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। বাড়ি ফেরার ব্য়বস্থা করা তো দূর, প্রশাসনের তরফে তাঁদের অন্যত্র থাকার ব্যবস্থাও করা হয়নি বলে অভিযোগ। বাড়ি ফেরার জন্য কার্যত ছটফট করছেন শ্রমিকেরা।  নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমলকৃষ্ণ সাহা বলেন, 'বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আমরা ওঁদের বোঝানোর চেষ্টা করছি।'

আরও পড়ুন: করোনার থাবা এবার বীরভূমেও, সংক্রমণ ধরা পড়ল মুম্বই ফেরত ৩ জনের

আরও পড়ুন: আরজি করের এমার্জেন্সি বিভাগের ১১ তলার উপর থেকে মরণঝাঁপ, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু চিকিৎসকের

উল্লেখ্য, স্রেফ নবদ্বীপেই নয়, লকডাউনের জেরে এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা।  দিন কয়েক আগে হুগলির শেওড়াফুলি থেকে একদল শ্রমিক হাঁটাপথে মুর্শিদাবাদের সালারে যাওয়ার চেষ্টা করেন। গুপ্তিপাড়া পর্যন্ত আসার পর ক্লান্তিতে লুটিয়ে পড়েন তাঁরা। পরিশ্রান্ত শ্রমিকদের উদ্ধার করে পুলিশ।