সম্প্রতি পুরুলিয়াতেও এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। কিন্তু উত্তপ্ত ভোটের বাজারে সে খবর আটকে রয়েছে কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায়।   

দিল্লিতে নির্ভয়া কাণ্ড মনে করলেই শিউরে উঠতে হয়। তারপরে কামদুনিতেও ঘটে গিয়েছিল একই রকম ভয়বাহ ঘটনা। গত বছর জম্মু কাশ্মীরের নাবালিকা আসিফার ঘটনা সামনে এসেছিল। প্রতিবারই সুবিচার পাওয়ার আশায় পথে নেমেছিল মানুষ। সম্প্রতি পুরুলিয়াতেও এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। কিন্তু উত্তপ্ত ভোটের বাজারে সে খবর আটকে রয়েছে কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের ডক্টর এন ঝা উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী মনিকা মাহাতো। গত ৩ মে থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় মনিকা। জানা গিয়েছে, পডতে গিয়েছিল ছাত্রী। কিন্তু আর ফেরেনি সে। 

পড়াশোনার জন্য বান্দোয়ানে জেঠুর বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত মনিকা। মনিকার নিজের বাড়ি মামরো গ্রামে। নিখোঁজ হওয়ার দিন টিউশন থেকে নিজের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানেও যায়নি সে। পুলিশকে ঘটনার কথা জানায় মনিকার পরিবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১০ মে পুরুলিয়ায় জমিরটিলার জঙ্গলের কাছে মাটি চাপা অবস্থায় পাওয়া যায় মনিকার ক্ষতবিক্ষত ওও বিবস্ত্র দেহ। 

পুলিশ জানিয়েছে, মনিকার দেহতে ছিল কামড়ের দাগ। ভারী কিছু দিয়ে তার শরীরে হাড়গুলি পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। খুনের আগে তার উপরে চলেছে অকথ্য অত্যাচার। তাকে পোড়ানোরও চেষ্টা করা হয়েছে। পরিবারের দাবি মনিকাকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। মনিকার দুইজন সহপাঠীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পরিবারের দাবি, এই ঘটনার পরে কেউই তাদের পাশে দাঁড়াননি। ভোটের বাজারে কেউ ঘটনাকে গুরুত্বই দেয়নি। শাসকদল-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি ইভিএম লড়াই এর জন্য এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে। এমনকী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারাও কোনও ভূমিকা নেয়নি বলে জানা গিয়েছে। 

কিন্তু ঘটনাটি জানাজানি হতেই নেটিজেনরা সোশ্যাল মিডিয়া মনিকার জাস্টিসের জন্য সরব হয়েছেন। জাস্টিস ফর মনিকা এই হ্যাশট্যাগে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। খবরটিকে সরকার ও সকলের সামনে নিয়ে আসতে শুরু হয়েছে পিটিশনও। 

নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন, মনিকা দরিদ্র পরিবারের মেয়ে এবং ভোটের মরশুমে এই অত্যাচারের শিকার হয়েছে বলে কি কোনও সুবিচার পাবে না! তবে নেটিজেনরা আশা করছেন যে এই ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাবেন।