সকালে সেমিনারে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। সন্ধেয় সেমিনার শেষেও বিশ্বভারতীতে বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তকে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখলেন পড়ুয়ারা। টুইট করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।  এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি-র সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল। 

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ক্যাম্পাসে একটি সেমিনারের আয়োজন করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন বিজেপি-এর রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট সদস্যও বটে। কিন্তু বিশ্বভারতীতে হঠাৎ নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সেমিনার কেন? প্রশ্ন তোলেন পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের একাংশ, সেমিনার বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। বিক্ষুদ্ধ পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের পাশে দাঁড়ায় পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের একাধিক সংগঠনও। গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল বিশ্বভারতী চত্বরে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সকালে যখন সেমিনার যোগ দিতে বিশ্বভারতীতে পৌঁছন বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত, তখন তাঁর গাড়ি ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। কালো পতাকা দেখানো হয়, ওঠে 'গো ব্যাক' স্লোগান। বিক্ষোভের কারণে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয় স্বপন দাশগুপ্তকে। শেষপর্যন্ত অবশ্য সেমিনার যোগ দেন তিনি। কিন্তু সন্ধে ছ'টা নাগাদ সেমিনার শেষ হতেই বিশ্বভারতীতে ফের বিজেপি সাংসদকে ঘেরাও করেন  পড়ুয়ারা। ঘেরাও চলে রাত ন'টা পর্যন্ত। 

বিশ্বভারতীতে বিজেপি সাংসদকে ঘেরাও করা নিয়ে রাতে টুইট করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি লেখেন, 'এই ঘটনাই প্রমাণ করে, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। ' শুধু তাই নয়, বিশ্বভারতীর ঘটনা নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি-র সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন রাজ্যপাল। 

 


উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কেও ঘেরাও তরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা। কালো পতাকা দেখানো হয় আচার্যকে। সেই একই ঘটনা ঘটল বিশ্বভারতীতে। এবার  বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি  সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।