কাশ্মীরে পাঁচ বাঙালি শ্রমিককে হত্যার ঘটনায় এবার শুরু হল রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করে টুইট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই অভিযোগের জবাব দিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, বাংলায় কর্মসংস্থানের অভাবের কারণেই ভিনরাজ্যে গিয়ে বিপদে পড়েছেন ওই শ্রমিকরা। 

এ দিন প্রথমে বাঙালি শ্রমিকদের হত্যার ঘটনায় শোকবার্তা জানালেও পরে এই হত্যাকাণ্ডের দায় মোদী সরকারের উপরে চাপান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, 'কাশ্মীরে পরিকল্পিতভাবে এই খুন করা হয়েছে। এখন ওখানে কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপ হচ্ছে না। কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলার দায় পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকারের।'

মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে এ দিন কলকাতা বিমানবন্দরে মুকুল রায় বলেন, 'পাঁচজন মানুষ মারা গিয়েছেন এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু এটা নিয়ে যাঁরা রাজনীতি করছেন, তাঁদের ভেবে দেখতে বলব যে বাংলা কর্মসংস্থান নেই বলেই মানুষগুলোকে বাংলার বাইরে কাজের জন্য যেতে হচ্ছে। সরকার অনুদান দিচ্ছে ভাল, কিন্তু তার বদলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে রাজ্যের মানুষকে বাইরে যেতে হবে না।' কারও নাম না করেই মুকুল রায় বলেন, 'কিছু মানুষ এখনও কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার করছে। আসলে তাঁরা পাকিস্তানকে মদত করছেন। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হাতে এই মানুষগুলো নিহত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরে প্রয়োজনীয় যযা ব্যবস্তা নেওয়ার নেবে। কাশ্মীরে শান্তি ফিরবেই।'

আরও পড়ুন- কাশ্মীরে বাঙালি শ্রমিক হত্য়ার দায় মোদী সরকারের, টুইটারে সরব মুখ্যমন্ত্রী

আরও পড়ুন- ফেরার সুযোগ পেলেন না কামিরুদ্দিনরা, হত্যালীলায় বাকরুদ্ধ সাগরদিঘির ব্রাহ্মণী গ্রাম

মমতাকে বিঁধে মুকুল আরও বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী বলছেন কাশ্মীরের ঘটনার দায় কেন্দ্রীয় সরকারের। তাহলে লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে এ রাজ্যে বিজেপি-র যে ৩৯ জন কর্মী খুন হয়েছেন. তার  দায় কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন?'

বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ভাইফোঁটা নিতে যাওয়ার ঘটনা নিয়েও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি মুকুল। বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে এড়িয়ে যান বিজেপি নেতা।