কাশ্মীরে মুর্শিদাবাদের পাঁচ বাঙালি শ্রমিক হত্যার দায় মোদী সরকারের ওপর চাপালেন মুখ্য়মন্ত্রী। টুইটারে মমতা বলেছেন, কাশ্মীরে পরিকল্পিতভাবে এই খুন করা হয়েছে। এখন ওখানে কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপ হচ্ছে না। কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলার দায় পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকারের।   

আরও পড়ুন : কাশ্মীরের হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত মমতা, পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কাশ্মীরে নিহত পাঁচ মুর্শিদাবাদের শ্রমিক পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন বলে সকালেই আশ্বাস দিয়েছিলেন। দুপুরের আগেই কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। টুইটারে মমতা জানিয়ে দিলেন, কাশ্মীরে নিহত শ্রমিক পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি কেন বাঙালি শ্রমিকদের কাশ্মীরে এভাবে মরতে হল তা জানতে তদন্তের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শ্রমিক হত্যার তদন্তে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সিঞ্জয় সিংহকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই রহস্যের কিনারা করতে বিস্তারিত তথা সংগ্রহ করবেন তিনি। পাশাপাশি এই হত্যা রহস্যের জট খুলতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, যেভাবে পাঁচ বাঙালি নিরীহ শ্রমিককে পরিকল্পিতভাবে হত্য়া করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।  ইতিমধ্য়েই  নিহত বাঙালি শ্রমিক পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছে তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়করা। 

শয্যা অমিল, তিনটি সরকারি হাসপাতালে ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু যুবকের

এদিন সকালেই কাশ্মীরে বাংলার পাঁচ শ্রমিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার পরে টুইট করে তিনি জানান, গোটা ঘটনায় তিনি স্তম্ভিত এবং গভীরভাবে শোকাহত। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল জগদদীপ ধনখড়ও। শোকবার্তায় রাজ্যপাল জানিয়েছেন, 'এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করার ভাষা নেই।' টুইটারে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, 'কাশ্মীরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আমরা স্তম্ভিত এবং গভীরভাবে শোকাহত। মুর্শিদাবাদের পাঁচজন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে কোনও কথাই যথেষ্ট নয়। এই বিপর্যয়ের মুহূর্তে তাঁদের পরিবারকে আমরা সবরকম সহযোগিতা করব।'

এই নৃশংস ঘটনায় নিজের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করেননি মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এই ঘটনাকে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতা হিসেবেই তৃণমূল- সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি তুলে ধরবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রাথমিকভাবে অবশ্য নিহতদের দেহ দ্রুত এ রাজ্যে ফিরিয়ে এনে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। এ ছাড়াও, এখনও কাশ্মীরে মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য প্রান্তের যে শ্রমিকরা কর্মরত রয়েছেন, তাঁদের যথাযথ নিরাপত্তার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে জম্মু কাশ্মীরের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেই খবর। জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ধারা বিলোপের পর থেকেই কড়া অনুশাসনের মধ্য়ে রয়েছে কাশ্মীর। লাদাখের সঙ্গে সঙ্গে কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলাও এখন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে।