বেনিয়া গ্রাম চত্বরে কনটেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে মেডিকেল টিম সহ পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে স্পেশাল গ্রুপ। 

সাত বছরের শিশুর শরীরে (7 years old Boy) ওমিক্রনের(Omicron) চিহ্ন ধরা পরার পড়েই মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলা জুড়ে তৎপরতা বেড়েছে। শিশুটির আসল বাড়ি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা (Farakka of Murshidabad) থানার বেনিয়াগ্রামে। কিন্তু বর্তমানে সে মালদহের কালিয়াচক এলাকায় তার মামার বাড়িতে ছিল বলে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে বেনিয়া গ্রাম চত্বরে কনটেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে মেডিকেল টিম সহ পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে স্পেশাল গ্রুপ। তিন সদস্যের এই টিম গোটা এলাকায় নজরদারির মাধ্যমে 'ইনটেনসিভ রিপোর্ট' কার্ড তৈরী করবে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে খবর।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল জানান, যাবতীয় বিষয়ের ওপর সজাগ নজরদারি রয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা টিম তৈরি করে খতিয়ে দেখছেন"। পুনরায় ওই শিশুর লালারস সংগ্রহ করে কল্যাণীতে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে শিশুটির মা বাবা ও তার বোনের আরটি পিসিআর পরীক্ষা করা হবে। পজিটিভ হলে তাঁদের নমুনাও কল্যাণীতে পাঠানো হবে।

সব মিলিয়ে রাজ্যে প্রথম ওমিক্রনের হদিশ মেলায় রীতিমতো নতুন করে আতঙ্ক চারা দিয়েছে তা বলাই যায়। এর আগে জানা যায়, ওই শিশু আবু ধাবি থেকে ভারতে এসেছিল। আবু ধাবি থেকে প্রথমে তার পরিবার আসে হায়দরাবাদে। হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে নামার পর ওই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের করোনা পরীক্ষা করা হয়। তাতে বাবা-মায়ের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তবে শিশুর নমুনায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। স্পষ্ট ওই ওই শিশুর শরীরে বাড়তে শুরু করেছে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট। তারপরই তড়িঘড়ি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সে কথা জানানো হয় তেলেঙ্গানা সরকারের তরফে।

এদিকে তেলেঙ্গানা থেকে এই দুঃসংবাদ পেয়ে ঘুম ছুটে যায় রাজ্যের স্বাস্থ্য আধিকারিদেরও। প্রথমে জানা হয় শিশুটির নির্দিষ্ট অবস্থান। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ মহল থেকে খবর পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে মালদহ জেলা স্বাস্থ্য দফতরও। সাড়া পড়ে যায় চারদিকে। কিন্তু করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর ওই শিশুকে কী ভাবে তার পরিবার এতটা পথ নিয়ে এল, সেই প্রশ্ন উঠছে। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ওমিক্রন পজিটিভ শিশু কী ভাবে ফরাক্কা পৌঁছল তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। প্রসঙ্গত ইতিপূর্বে এই মুর্শিদাবাদ এই দেশে প্রথম সম্ভাব্য করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটে পরিযায়ী শ্রমিকের।