বৃহস্পতিবার সকালে হরিয়ানার হোটেলের বাথরুম থেকে লুকিয়ে ফেসবুক লাইভে নিজের দিদির কাছে আর্তি জানিয়েছিল ভাই। নিজেই আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিল, হয়তো তাঁকে খুনই করে ফেলা হবে। তাই শেষবারের মতো নিজের দিদির সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার নাসিম হক। এর ঘণ্টা দু'য়েক পরেই হরিয়ানার ওই হোটেল সংলগ্ন একটি বহুতল থেকে উদ্ধার হল নাসিমের মৃতদেহ। ঘটনায় নিহত যুবকের প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে। নাসিমের মৃত্যুতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থানার ঝাড়বাড়ি এলাকায়। 

এই ঘটনার পর থেকে নাসিমের প্রেমিকারও কোনও খোঁজ নেই। যদিও কোনও এক অজ্ঞাত স্থান থেকে ফেসবুক লাইভ করে সেও দাবি করেছে, নাসিমকে বিয়ে করবে বলেই বাড়ি ছেলেছিল সে। তাঁর উপরে কেউ কোনও জোর খাটায়নি। বরং তাঁর পরিবার অন্যত্র বিয়ে ঠিক করাতেই নাসিমের সঙ্গে সে পালিয়ে যায়। বাড়ি থেকে সে কোনও টাকা পয়সা অথবা গয়নাও নিয়ে যায়নি। 

নাসিম এবং ওই যুবতীর ফেসবুক লাইভের দু'টি ভিডিও-ই চোপড়া এবং সংলগ্ন এলাকার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ওই যুবতীর পরিবারের মতোই তাঁর পরিবারের কারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। 

নাসিম হক নামে পেশায় রং মিস্ত্রির সঙ্গে একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। দু' জনেই চোপড়ার ঝাড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু ওই যুবতীর পরিবার থেকে ওই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এর পরে কয়েকদিন আগে পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় নাসিম এবং তাঁর প্রেমিকা। পালিয়ে হরিয়ানায় চলে যায় তাঁরা। 

অভিযোগ, এর পরেই নাসিমের বিরুদ্ধে চোপড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে প্রেমিকার পরিবার। তার পরে হরিয়ানায় গিয়ে ওই যুগলকে প্রেমিকার পরিবারের লোকজন খঁজে করে। এর পরেই নাসিমকে  একটি হোটেলে আটক করে অত্যাচার শুরু করা হয় বলে অভিযোগ। প্রেমিকার পরিবারের নজর এড়িয়ে বাথরুম থেকে বৃহস্পতিবার সকাল দশটা নাগাদ নিজের দিদিকে ফেসবুক লাইভ করে নাসিম বিপদের কথা জানান। 

ফেসবুক লাইভে নাসিমকে বলতে শোনা গিয়েছে, 'দিদি আমায় ওরা মেরে ফেলবে। আমার উপরে ওরা খুব অত্যাচার করছে। আমি ভুল করে ফেলেছি। তোদের সঙ্গে আমার আর দেখা হবে না। ভাই আর মাকে দেখিস।' অভিযোগ, এর ঘণ্টা দু' য়েক পরেই ওই যুবতীর এক আত্মীয় নাসিমের পরিবারকে ফোন করে জানায় যে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন।

নাসিমের মা জানিয়েছেন, সাইন বলে গ্রামেরই এক ব্যক্তি তাঁকে জানায়, ছেলে নাসিমকে ফিরিয়ে আনতে ৫০ হাজার টাকা লাগবে। তিনি সেই টাকাও তুলে দিয়েছিলেন সাইনের হাতে। কিন্তু তারপরেও ছেলেকে আর ফিরে পেলেন না। তাঁর অভিযোগ, নাসিমের প্রেমিকার বাবা রেজেদুল, কাকা মুস্তাকির এবং গুলজার ও সাইন মিলেই নাসিমকে হত্যা করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চোপড়া থানায় অভিযোগ করেছে নাসিমের পরিবার। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। হরিয়ানায় ময়নাতদন্তের পরে নাসিমের দেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।