Nadia Election News: ভোটের লাইনে দাঁড়ালেও আগে থেকেই পড়ে গিয়েছে ভোট। সকালে ভোট দিতে গিয়ে উত্তেজনা ছড়ালো নদীয়ার ভীমপুরে। তারপর কী হলো? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…
Nadia Election News: ভোট দিতে গিয়ে বিপাকে বৃদ্ধা! ‘আগেই পড়ে গেছে ভোট’ অভিযোগে চাঞ্চল্য। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন নদীয়ার ভীমপুর থানার অধীনে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার আসাননগর দুর্লভপাড়া ২১১ নং বুথে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে।
অর্চনা মণ্ডল নামে এক বয়স্কা ভোটার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে ২১১ নং বুথে যান। অভিযোগ, তাঁর স্বামী ভোট দিতে পারলেও তিনি নিজে ভোট দিতে পারেননি। বুথের কর্মীরা তাঁকে জানান, তাঁর ভোট নাকি আগেই পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় বিস্মিত হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধা। পরে তিনি বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন এবং সংবাদমাধ্যমের সামনেও নিজের অভিযোগ তুলে ধরেন। ঘটনাকে ঘিরে কিছু সময় উত্তেজনা তৈরি হলেও প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালীন উত্তেজনা ছড়াল ৭৬ নম্বর বুথকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, বুথ পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার। ঘটনায় তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং নিরাপত্তারক্ষীর আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভোট চলাকালীন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুথে পৌঁছন বিকাশ সর্দার। সেই সময় আচমকাই একদল দুষ্কৃতী তাঁর গাড়িকে ঘিরে ধরে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
অভিযোগ, হামলাকারীরা শুধু গাড়িতেই ক্ষান্ত থাকেনি, বরং প্রার্থীর নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করে। ঘটনার সময় এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও তারা সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড়সড় গাফিলতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের নেতারা। তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার কথাও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এই ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
তাদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত নাটক এবং ভোটের দিন অযথা উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিরোধীরা। শাসক দলের নেতাদের বক্তব্য, বাসন্তীতে ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাসন্তী এলাকায় রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে। ভোটের দিনেই এমন হামলার অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এত কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল। সব মিলিয়ে, বাসন্তীর এই ঘটনা রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের তরফে শান্তিপূর্ণ ভোটের আশ্বাস দেওয়া হলেও, ময়দানের বাস্তব চিত্র নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। এখন দেখার, তদন্তে ঠিক কী তথ্য সামনে আসে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


