West Bengal Tourism: দার্জিলিং যেতে ইচ্ছা করে, কিন্তু ভিড়, জ্যাম আর খরচের জন্য পিছিয়ে যান? চিন্তা নেই। দক্ষিণবঙ্গেই আছে ‘দার্জিলিং’। বর্ষায় এখানকার পাহাড়ি রাস্তা, মেঘ-কুয়াশা, চা বাগান দেখলে মনে হবে সত্যিকারের পাহাড়ে এসেছেন। কলকাতা থেকে ৩-৪ ঘণ্টার রাস্তা, খরচও কম। নিরিবিলি, শান্ত পরিবেশে ২ দিন কাটিয়ে আসুন। ক্লান্তি দূর হবে একদম।
Tourism News: বর্ষা এলেই মন চায় পাহাড়। কিন্তু ট্রেনের টিকিট নেই, হোটেলের দাম আকাশছোঁয়া। দার্জিলিং-কার্শিয়াং এর ভিড় সামলাতে পারবেন না। তাহলে উপায়? উপায় আছে। দক্ষিণবঙ্গের কোলে লুকিয়ে আছে একটা মিনি দার্জিলিং। নাম শুনলে অবাক হবেন। এখানে নেই পাহাড়ের খাড়াই, কিন্তু আছে পাহাড়ি আবহাওয়া। মেঘ এসে গায়ে লাগে, চারপাশে সবুজ আর সবুজ। বর্ষায় ঝরঝর বৃষ্টি, ঠান্ডা হাওয়া – একদম দার্জিলিং এর ফিল। অথচ কলকাতা থেকে গাড়িতে ৩-৪ ঘণ্টা। চলুন জেনে নিই ‘দক্ষিণবঙ্গের দার্জিলিং’ কোথায় আর কী দেখবেন।

কোথায় এই ‘দক্ষিণবঙ্গের দার্জিলিং’?
জায়গার নাম: গড়পঞ্চকোট, পুরুলিয়া। পুরুলিয়ার গড়পঞ্চকোটকে অনেকে ‘দক্ষিণবঙ্গের দার্জিলিং’ বলে ডাকে। পাঞ্চেত পাহাড়ের কোলে, ঘন জঙ্গল আর আদিবাসী গ্রামে ঘেরা এই জায়গা। বর্ষায় পুরো এলাকা মেঘ-কুয়াশায় ঢেকে যায়। পাহাড়ি রাস্তা, লাল মাটি, সবুজ শাল-পিয়ালের জঙ্গল – দেখলে দার্জিলিং এর কথা মনে পড়বে।
কলকাতা থেকে দূরত্ব: মাত্র ২৬০ কিমি। গাড়িতে ৪ ঘণ্টা, ট্রেনে আদ্রা স্টেশন। সেরা সময়: জুন থেকে সেপ্টেম্বর। বর্ষায় রূপ সবচেয়ে সুন্দর।
বর্ষায় গড়পঞ্চকোটে কী দেখবেন?
৫টি কারণে যাবেন
১. পাঞ্চেত পাহাড় ও ড্যাম: পাহাড়ের মাথায় উঠলে নিচে পাঞ্চেত ড্যামের নীল জল। বর্ষায় ড্যাম উপচে পড়ে। মেঘ এসে পাহাড় ছোঁয়। ভিউ একদম দার্জিলিং এর মতো।
২. ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির: ১৭ শতকের গড়পঞ্চকোটের ভাঙা মন্দির। জঙ্গলের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস। বর্ষায় শ্যাওলা ধরা ইটের গায়ে বৃষ্টির ফোঁটা – দারুণ লাগে।
৩. ঘন জঙ্গল ও ট্রেকিং: শাল, মহুয়া, পিয়ালের জঙ্গলে হাঁটতে দারুণ লাগবে। পাখির ডাক, ঝিঁঝিঁর আওয়াজ। শহরের কোলাহল নেই।
৪. আদিবাসী গ্রাম: পাশেই সাঁওতাল গ্রাম। তাদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি দেখতে পাবেন। বর্ষায় মাঠে ধান রোপণের দৃশ্য মন ভরিয়ে দেবে।
৫. নিরিবিলি ও শান্তি: দার্জিলিং এর মতো ভিড় নেই, হকার নেই। শুধু আপনি, পাহাড় আর মেঘ। মানসিক শান্তির জন্য আদর্শ।
কীভাবে যাবেন আর কোথায় থাকবেন?
যাতায়াত: কলকাতা থেকে ট্রেনে আদ্রা জংশন। সেখান থেকে গাড়ি ২০ মিনিট। নিজের গাড়ি থাকলে NH-12 ধরে সোজা। থাকা: WBTDC-র পর্যটক আবাস আছে। এছাড়া পাহাড়ের কোলে বেশ কিছু রিসোর্ট। ভাড়া ১২০০ টাকা থেকে শুরু। বর্ষায় অফ সিজন, তাই দাম কম। খাওয়া: স্থানীয় হোটেলে গরম ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, মুরগির ঝোল। আদিবাসী স্টাইলের পোড়া মুরগি মাস্ট ট্রাই।
বর্ষায় যাওয়ার ৩টি টিপস
১. জোঁকের জন্য প্রস্তুত থাকুন: জঙ্গলে জোঁক থাকে। নুন, ডেটল রাখুন সঙ্গে।
২. ছাতা-রেনকোট মাস্ট: হঠাৎ বৃষ্টি হবে। রাস্তা পিচ্ছিল, তাই ভালো জুতো পরুন।
৩. ২ দিনের প্ল্যান করুন: ১ দিনে গিয়ে ফিরে আসলে মজা নেই। ১ রাত থাকুন। সকালে মেঘ-রোদের খেলা দেখুন।
শেষ কথা-দার্জিলিং যেতে না পারলে মন খারাপ করবেন না। দক্ষিণবঙ্গের গড়পঞ্চকোট আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে। কম খরচে, কম সময়ে পাহাড়ি আমেজ পেতে চাইলে বর্ষায় এখানেই ঘুরে আসুন। অপার শান্তি পাবেন, সঙ্গে একগাদা ছবি।
আপনি বর্ষায় কোথায় ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন? কমেন্টে জানান। আর এই অফবিট জায়গাটা পছন্দ হলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


