করোনা আতঙ্কে বেপরোয়া বাড়িওয়ালা বিডিও-কে ঢুকতে দিলেন না বাড়িতে বাড়িওয়ালাকে সঙ্গ দিলেন স্থানীয়রা ধুন্ধুমারকাণ্ড হুগলির আরামবাগে  

উত্তম দত্ত, হুগলি: সংক্রমণ নয়, এবার করোনা আতঙ্কের শিকার হলেন খোদ বিডিও। ঢুকতে পারলেন না ভাড়াবাড়িতে। শেষপর্যন্ত পুলিশ তাঁর বাড়ি ঢোকার ব্যবস্থা করে। ধুন্ধুমারকাণ্ড হুগলির আরামবাগ শহরে। গ্রেফতার করা হয়েছে আটজনকে। একজন জামিন পেয়েছেন, বাকিদের সাতদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন: চোপড়া ধর্ষণকাণ্ডে মূল অভিযুক্তের অস্বাভাবিক মৃত্যু, পুকুরে ভেসে উঠল দেহ

প্রশাসনিক আধিকারিক হোন কিংবা পুলিশকর্তা, এমনকী জনপ্রতিনিধিরাও, করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কেউই। যতদিন দিন যাচ্ছে, লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের সংখ্য়া বাড়ছে রাজ্যের সর্বত্রই। জানা গিয়েছে, হুগলির গোঘাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির বেশ কয়েকজন সদস্যও করোনায় আক্রান্ত। বিডিও সুরশ্রী পাল নিজে অবশ্য সুস্থই আছেন। কিন্তু ঘটনা হল, ঘর আলাদা হলেও পঞ্চায়েত সমিতির অফিসেই বসেন তিনি। ব্যস আর যায় কোথায়! করোনা আতঙ্কে খোদ বিডিও-কেই ভাড়াবাড়িতে ঢুকতে দিলেন না বাড়িওয়ালা ও তাঁর স্ত্রী। 

আরামবাগ শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক সরকারি আধিকারিকের বাড়িতে ভাড়া থাকেন গোঘাট ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সুরশ্রী পাল। বাড়িওয়ালার স্ত্রী আবার পেশায় শিক্ষিকা। রবিবার যখন মেয়েকে নিয়ে ফেরেন, তখন বিডিও-কে বাড়িওয়ালা ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি ঢুকতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। বাড়িওয়ালা সাফ জানিয়ে দেন, লালারস পরীক্ষা করিয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে করোনামুক্ত বলে প্রমাণ করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত বিডিও ও তাঁর পরিবারের লোককে বাড়িতে থাকতে দেবেন না। ঘটনার জেরে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

আরও পড়ুন: 'ধর্ষণকেই শিল্প হিসেবে দেখাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী', চোপড়াকাণ্ড নিয়ে মমতাকে সরাসরি আক্রমণ অগ্নিমিত্রার

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আরামবাগ থানার পুলিশ। প্রথমে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পরিস্থিতি শাস্ত করার চেষ্টা হয়। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন বাড়িওয়ালা। শেষপর্যন্ত বিডিও সুরশ্রী পাল ও তাঁর মেয়ে একপ্রকাশ জোর করেই বাড়িতে ঢুকিয়ে দেয় পুলিশ। বিডিও-কে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বাড়ির মালিক ও তাঁর স্ত্রী-সহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।