এনআরসি-র আতঙ্কে দিশেহারা সকলেই। আধার কার্ড সংশোধনের লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন মহিলা ও শিশু-সহ বেশ কয়েকজন। ভিড়ে চাপে কার্যত পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি পোস্ট অফিসের সামনে। ভিড় সামলাতে গিয়ে পোস্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়লেন পুলিশকর্তারা। মঙ্গলবার সকালে এমনই ছবি দেখা গেল মালদহ শহরে।

এনআরসি-সিএএ প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। কিন্তু, এ রাজ্যে মানুষের আতঙ্ক যেন কিছুতেই কাটছে না! মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করে আধার কার্ড সংশোধনের কাজ শুরু হয় মালদহ শহরের প্রধান ডাকঘরে। মালদহ শহর তো বটেই, গ্রামীণ এলাকা থেকেও বহু মানুষ ভিড় জমান ফোয়ারা মোড় এলাকায়। সকালে প্রবল ঠেলাঠেলিতে রীতিমতো পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বেলার দিকে ভিড় আরও বাড়ে। স্থানীয় সূত্রে খবর, এক সময়ে পোস্ট অফিসের সামনে একসময়ে দুই থেকে তিন কিমি লম্বা লাইন পড়ে যায়! ভিড়ের চাপে বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল, অবরুদ্ধ হয়ে যায় মালদহ শহর। এরইমধ্যে আবার অসুস্থ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে মহিলা ও শিশু-সহ বেশ কয়েকজন। তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

আরও পড়ুন: হাতে একে ৪৭- ইনসাস, পড়ুয়াদের সেনাবাহিনীতে টানতে শিবির বহরমপুরে

পরিস্থিতি সামাল দিতে যখন মালদহ শহরের প্রধান ডাকঘরের সামনে হাজির হন ইংরেজবাজার থানার আইসি-সহ পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা, তখন পোস্ট অফিসের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়ে যায়। পুলিশের অভিযোগ, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই শহরের প্রাণকেন্দ্র ফোয়ারা মোড়ে প্রধান ডাকঘরে আধার কার্ড সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যদিও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের জন্য পুলিশের দিকেই আঙুল তুলেছেন মালদহের প্রধান ডাকঘরের সুপার অমল কৃষ্ণ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ব্লক প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই আধার কার্ড সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। যতই ভিড় হোক না কেন, সকলের আবেদনই গ্রহণ করা হবে।