পথে নেমে প্রতিবাদ করছেন। এনআরসি নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে কাজের কাজ কিছুই করছেন না মুখ্যমন্ত্রী। ফলে বাংলার ভেরিফিকেশনের অভাবে এনআরসির তালিকায় ঢুকতে পারছেন না লক্ষাধিক অসমের মানুষ। এমনই অভিযোগ করলেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

রাজ্যে এনআরসি আতঙ্কে জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে মৃত্যুমিছিল। মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা সাহায্য়ের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী। এনআরসি ইস্যুতে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে ইতিমধ্যেই ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছেন মমতা। যদিও এতকিছুর পরও রাজ্যে এনআরসি নিয়ে আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে বিজেপি। বুধবার আলিপুরদুয়ারে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, অসমে এনআরসিতে আগে ৪০ লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়েছিল। পরে সেই হিসেবটা ১৯ লক্ষতে এসে দাঁড়িয়েছে। এখনও সবার ভেরিফিকেশন হয়নি। 

রাজ্য থেকে বহু লোক কর্মসূত্রে অসমে গিয়ে থাকেন। তাঁদের নথি রাজ্য সরকারের কাছে ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠিয়েছে অসম সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্য়কে ১ লক্ষ ২৫ হাজার লোকের নাম ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হয়েছে। যদিও সেই ভেরিফিকেশনের মাত্র ২০ হাজার নাম পাঠাতে পেরেছে মমতার সরকার। বাকি ১লক্ষ ৫ হাজার মানুষের এখনও ভেরিফিকেশনই করেনি রাজ্য সরকার। এই তথ্যই প্রমাণ করে এনআরসি তালিকা পুরো হোক চান না মুখ্য়মন্ত্রী। এই ভেরিফিকেশনের তালিকা আটকে রেখে এনআরসি নিয়ে রাজনীতি করছেন তৃণমূল নেত্রী। নতুবা বিজেপি এনআরসি নিয়ে রাস্তায় না নামলেও উনি এনআরসি-র বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছেন।   

রাজ্যের রাজনৈতিক চালচিত্র বলছে, যাদবপুর পর্বের পর থেকে রাজ্যপালের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল। যা নিয়ে প্রকাশ্য়ে বিবৃতি দিয়েছিন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পার্থবাবুর এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছেন মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট ব্লকে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাজ্য সরকার চাইছেন রাজ্যপাল তাদের মত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ুক। মুখ্যমন্ত্রীর যেমন প্রশাসনিক বৈঠকের অধিকার আছে, ঠিক তেমনই রাজ্যপালের সেই অধিকার রয়েছে।  রাজ্যপাল উত্তরবঙ্গে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন।  মুখ্যমন্ত্রী যেমন কেন্দ্রের ডাকে সাড়া দেন না, তেমনই তার মন্ত্রীরা রাজ্যপালের ডাকে সাড়া দেন না।