তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক যুব তৃণমূল নেতা। তিনি আবার মুর্শিদাবাদের প্রয়াত তৃণমূল সাংসদ মান্নান হোসেনের পুত্র সৌমিক হোসেনের আপ্ত সহায়ক। জেলার এমন প্রভাবশালী নেতার আপ্ত সহায়কের গ্রেফতারিতে স্বভাবতই অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব।

ধৃত ওই তৃণমূল নেতার নাম বরুণ মাঝি। পুলিশ সূত্রে দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই যুব তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ আসছিল। সেই মতো তাঁকে নজরে রাখছিল পুলিশও। অভিযোগ, রবিবার রাতেও বহরমপুরের পঞ্চাননতলা সংলগ্ন কারবালা রোড়ের উপরে  ট্রাকের থেকে দেদার টাকা তোলা আদায় করছিলেন ওই তৃণমূল নেতা এবং তাঁর দলবল। সেই সময় হাতেনাতে ওই তৃণমূল নেতাকে ধরে ফেলে পুলিশ। এ দিন তাঁকে বহরমপুর আদালতে তোলা হয়।

সৌমিক হোসেন ঘনিষ্ঠ এই নেতার গ্রেফতারিতে স্বভাবতই জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের নিরপেক্ষতার প্রশংসা করলেও এই গ্রেফতারির পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সমীকরণও দেখছেন বিরোধীরা। জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র তথা অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক সচিব জয়ন্ত দাস বলেন,'প্রথমত পুলিশ যদি আদতে নিরপেক্ষ ভাবে তোলাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করে, তবে সেটা ইতিবাচক দিক। এই অভিযান চালু থাকলে অনেক বড় ইলিশ আগামী দিনে জালে ধরা পড়বে। তবে এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের একটা ফলও হতে পারে।' এদিকে মুর্শিদাবাদ দক্ষিণের জেলা বিজেপি সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন,'এই জেলায় তৃণমূলের কমবেশি পাঁচটি গোষ্ঠী রয়েছে। চোখে ধুলো দিতেই এই গ্রেফতারি। সত্যি সত্যি অভিযান চালালে পুরো তৃণমূল দলটাই তোলাবাজির দায়ে জেলে ঢুকে যাবে।'

তৃণমূল নেতা সৌমিক হোসেনের অবশ্য দাবি, বরুণের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ মিথ্যে। তাঁর দাবি, রাতে একটি বেপরোয়া গাড়ি এসে বরুণ মাঝি নামে ওই তৃণমূল নেতার গাড়িতে ধাক্কা মারে। তা নিয়ে দু' পক্ষে বচসা শুরু হয়। এই ঘটনাতেই তাঁর আপ্ত সহায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি সৌমিক হোসেনের।