ভদ্রেশ্বর তেলিনিপাড়ায় ঢুকতে গেলেই বিজেপির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে আটকে দিল পুলিস। এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন হুগলির বিজেপি সাংসদ । গত কাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে তেলেনিপাড়া এলাকা । ঘটনার উৎস করোনা সন্দেহে একটি পাড়ায় ব্যারিকেড দেওয়াকে কেন্দ্র করে । মুহুর্মুহু বোমার আওয়াজে এলাকা কেঁপে ওঠে । এলাকায় ভাঙচুর , লুটপাট , দোকানে অগ্নি সংযোগের অভিযোগ উঠেছে। 

পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হতে থাকে যে তেলেনিপাড়া পুলিস ফাঁড়ির পিছনে ঘটলেও ঘটনা প্রথমে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি পুলিশ।  এরপরই খবর পেয়ে চন্দননগর পুলিস কমিশনারেটের বিশাল বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে । বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয় । এলাকায় পৌঁছে যান পুলিস কমিশনার হুমায়ুন কবীর । রাতভোর অ্যাকশনে নেমে পুলিস অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনে । যদিও এখন সেখানে থমথমে পরিবেশ ।  

দুপক্ষ থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫ জনকে । আরও গ্রেফতার বাড়বে বলে জানা গেছে । সংঘর্ষে বেশ কিছু ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে খবর । তাঁদের ভদ্রেশ্বর অঙ্কুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।  ইতিমধ্যেই খবর পেয়ে সোমবার সকালে এলাকার সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে চন্দননগর জ্যোতির মোড় এলাকায় পুলিস তাঁকে আটকে দেয় । 

যদিও লকেট চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি সেখানে উত্তেজনা ছড়াতে যাননি ।  উপদ্রুত এলাকায় ঢুকতে চাননি । তিনি শুধু পুলিস কমিশনার সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন । কিন্তু তিনি দেখা দিলেন না । তাঁর বক্তব্য, এখানকার সমস্ত ঘটনা তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে জানাবেন । জানাবেন রাজ্যপালকেও । গতকালের ঘটনা সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন , একটি গোষ্ঠীর লোক করোনা ধরা পড়ার পরও কোয়ারেন্টাইনে যেতে  চাইছেন না ! এটা কি মগের মুলুক ? পুলিস তাহলে কি করতে আছে ? তারা কেন নিয়ে যাচ্ছে না । 

অন্যদিকে গতকালের ঘটনা সম্পর্কে তৃণমূল থেকে জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন, ওই অঞ্চলে যা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত । কিন্তু সে ব্যাপারে পুলিস যথাযোগ্য ব্যবস্থা নিয়েছেন । এখানে যদি এসব ব্যাপার নিয়ে রাজনীতি করা হয় প্রশাসন তার কড়া ব্যবস্থা নেবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।