খোদ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধেই দুই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ। আর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর চব্বিশ পরগণার হাড়োয়া থানার মোহনপুর গ্রাম। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর উপরে চড়াও হয় ক্ষুব্ধ জনতা। শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই পুলিশ অফিসারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। 

শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটে বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া থানার মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোহনপুর এমসিএইচ হাই স্কুলে। স্থানীয় সূত্রে খবর, মোহনপুর এমসিএইচ হাইস্কুলে ২০১৯- ২০ সালের ছাত্র- যুব উৎসব চলছিল। সেখানেই হাড়োয়া থানা থেকে কর্তব্যরত অবস্থায় ছিলেন এএসআই জাহাঙ্গির হোসেন গাজি। অভিযোগ, সন্ধে ছ'টা নাগাদ একাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রীকে ওই পুলিশ অফিসার কুপ্রস্তাব দেন। তারা তা প্রত্যাখ্যান করতে তিনি তাদের গালিগালাজও করেন বলে অভিযোগ। 

আরও পড়ুন- পুলিশই যেন অপরাধী, বর্ধমানে উর্দিধারীদের বন্দি করে রাখল ক্ষুব্ধ জনতা

আরও পড়ুন- জলে ডুবে মৃত্য়ু, ত্রিকোণ প্রেমের বলি যুবক দাবি পরিবারের

ওই দুই ছাত্রী সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকর্মীর কুপ্রস্তাবের কথা অন্যান্য পড়ুয়া এবং গ্রামবাসীদের জানায়। এর পরেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জনতা। ক্লাসরুমের মধ্যে ঢুকিয়ে ওই পুলিশকর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রাণের ভয়ে আলমারির পিছনে আশ্রয় নেন অভিযুক্ত পুলিশকর্মী। গ্রামবাসীদের কয়েকজনও উন্মত্ত জনতার হাত থেকে ওই পুলিশকর্মীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পুলিশের গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা। পরে হাড়োয়া এবং মিনাখা থানা থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী এবং কমব্যাট ফোর্স গিয়ে আক্রান্ত পুলিশকর্মীকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে যান মিনাখার এসডিপিও। 

সত্যিই ওই পুলিশকর্মী ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযুক্ত এএসআই-কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।