তৃণমূলনেত্রী যখন দলের জনপ্রতিনিধিদের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ গড়ে তোলার নির্দেশ দিচ্ছেন, তখন দলেরই এক বিধায়কের কাটা মাথার দাবিতে পোস্টার পড়ল। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক অমল আচার্যের বিরুদ্ধে এমনই পোস্টার পড়েছে গোটা এলাকা জুড়ে। স্থানীয় নাগরিকবৃদ্দের নাম দিয়ে এই পোস্টার মারা হয়েছে এলাকায়। তৃণমূল বিধায়ক অবশ্য এর পিছনে বিরোধীদেরই হাত দেখছেন। 

সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধে পাইয়ে দেওয়া, চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তুলে বিধায়ক অমল আচার্য-সহ স্থানীয় বেশ কিছু তৃণমূল নেতাদের নামে এই পোস্টার মারা হয়েছে। ‘ইটাহার ব্লকের বঞ্চিত নাগরিকবৃন্দ’ নামে একটি সংগঠনের নাম করে সম্প্রতি রাতের অন্ধকারে বেশ কিছু পোস্টার মারা হয় এলাকায়। তাতে বিধায়ক এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। এই নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। এলাকার পাশাপাশি স্যোশাল মিডিয়াতেও বিষয়টি ভাইরাল হয়। এর পরে বৃহস্পতিবার সকালে ওই সংগঠনের নামেই ‘স্থানীয় বিধায়কের কাটা মাথা চাই’ - বলে বেশ কিছু পোস্টার চোখে পড়ে এলাকার বাসিন্দাদের। বিষয়টি জানাজানি হতেই দলীয় কর্মীরা ওই সমস্ত পোস্টার খুলে নেন।

প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা ইটাহারের বিধায়ক অমল আচার্যর দাবি, 'এই জেলায় আমি বা আমার দল কাটমানির সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাটমানি ফেরানোর ঘোষণা করার পরে ইটাহারে কাটমানি ইস্যু নিয়ে কোনও আন্দোলন হয়নি। কোনওভাবেই আমাকে কালিমালিপ্ত করা যায়নি। এর পরে ভুয়ো একটি নাম দিয়ে কিছু পোস্টার ছাপিয়ে রাতের অন্ধকারে চোরের মতো সেগুলিকে লাগানো হয়েছে। তাতেও কাজ না হওয়ায় এখন আমার মাথা কেটে নেওয়ার দাবি জানিয়ে পোস্টার লাগানো হয়েছে। এর পিছনে বিরোধীদের নোংরা রাজনীতি ছাড়া আর কিছু নেই। আর হুমকিতে আমি এতটুকু বিচলিতও নই। তবে কারা এই ধরনের পোস্টার লাগালো, তা খোঁজ করার জন্য প্রশাসনকে বলেছি।' পুলিশ অবশ্য এখনও কারা পোস্টার লাগিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে পারেনি।


বিজেপি-র জেলা সভাপতি নির্মল দামের পাল্টা দাবি, 'ওই পোস্টারগুলিতে কাটমানি ফেরানোর দাবির সঙ্গে আমরা একমত। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৃণমূলের নেতারা লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সেই টাকা ফেরতের দাবিতে মানুষ আন্দোলন শুরু করেছে। তাঁরা চাইলে আমাদের দলও আন্দোলনে সামিল হবে।’