বয়স মাত্র ন' বছর। কিন্তু এখনই বহরমপুরে বেশ বিখ্যাত হয়ে গিয়েছে সে। কারণ ন' বছরের ছোট্ট প্রাপ্তি দাসই দিল্লিতে জাতীয় সাব- জুনিয়র ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপে এবার প্রথম স্থান দখল করেছে। প্রাপ্তিকে দেখতে তাই এখন বহরমপুরের বাড়িতে পাড়া, প্রতিবেশী আর বন্ধুদের ভিড়। 

বহরমপুরের ছোট্ট এই মেয়েটিই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাব- জুনিয়র ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় বাইশটি রাজ্যের প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে বাংলার হয়ে প্রথম স্থান দখল করে সোনার পদক জিতেছে। রবিবার বিকেলেই কলকাতা হয়ে বহরমপুর পৌঁছেছে সে। প্রাপ্তির প্রশিক্ষক সৈকত দাসের কথায়, শুরু থেকেই আলাদা কিছু করার ইচ্ছাই প্রাপ্তিকে আজ এই সাফল্য এনে দিয়েছে। এবার তাঁর কোচের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতার জন্য প্রাপ্তিকে তৈরি করা। ছোট থেকেই বহরমপুর ক্যারাটে অ্যাকাডেমিতে সৈকতবাবুর কাছেই প্রশিক্ষণ নিয়েছে প্রাপ্তি। 

তবে এই সাফল্য অবশ্য সহজে আসেনি। টানা চল্লিশ দিন ধরে সৈকতবাবুর কাছে দিনে প্রায় আট ঘণ্টা করে অনুশীলন করেছে প্রাপ্তি। তার পরিবারও পড়াশোনা নিয়ে চাপ দেয়নি। ফলে মন দিয়ে সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি হয়েছে প্রাপ্তি। তার পুরস্কারও পেয়েছে সে। সৈকতবাবু জানান, লড়াইয়ের সময় সময়জ্ঞানই প্রাপ্তিকে তার প্রতিপক্ষদের থেকে এগিয়ে রাখে। 

দিল্লি থেকে ফেরার পরেই বাড়িতে এসে অনেকেই শুভেচ্ছা, সংবর্ধনা জানিয়ে গিয়েছেন। আর যাকে ঘিরে এই উচ্ছ্বাস, সেই  প্রাপ্তি বলছে, 'আমি শুরু থেকেই ওখানে কাউকে ভয় পাইনি, কারণ আমার কোচ কাকু আমাকে সব মারপ্যাঁচ আগে থেকেই দারুণ ভাবে শিখিয়ে দিয়েছিল।'