বাংলায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুষ্ঠান ঘিরে চরম শোরগোল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশাসন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন তিনি। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিধাননগরের বদলে গোঁসাইপুরে সেই সভা হয়। যেখানে অতি কম সংখ্যায় মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আর তাতেই অসন্তুষ্ট হন রাষ্ট্রপতি।
বাংলায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুষ্ঠান ঘিরে চরম শোরগোল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশাসন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন তিনি। শনিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিধাননগরের বদলে বাগডোগরা বিমানবন্দরের অদূরে গোঁসাইপুরে সেই সভা হয়। যেখানে অতি কম সংখ্যায় মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আর তাতেই অসন্তুষ্ট হন রাষ্ট্রপতি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে সে কথা চেপে রাখেননি রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, কারা সাঁওতালদের আটকাতে চাইছে? কারা চায় না সাঁওতালরা একজোট হোক? শিক্ষিত হোক? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বার্তা দেন রাষ্ট্রপতি। বলেন,"কোনও কারণে তিনি বোধহয় আমার উপরে রাগ করেছেন।"
প্রতি বছর আদিবাসী সম্প্রদায়ের বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত থাকেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এবছর শিলিগুড়িতে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে। উদ্যোক্তারা প্রথমে জানিয়েছিলেন এই কনফারেন্স হবে বিধাননগরে। কিন্তু তারপরেও চারবার সভাস্থল বদল করা হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভা করার অনুমতি মেলে প্রশাসনের তরফে। কিন্তু উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, প্রচুর আমন্ত্রিত এই সভায় আসতেই পারেননি সিকিউরিটি পাস না পাওয়ার কারণে। পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এমনকী রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে ছিলেন একমাত্র শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। প্রোটোকল অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য প্রশাসনের কোনও প্রতিনিধি অর্থাৎ কোনও মন্ত্রীকে থাকতে হয়। এক্ষেত্রে সেই প্রোটোকলও ভাঙা হয়েছে। এসবের জেরে যথেষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। মঞ্চে ওঠার পরই তিনি লক্ষ্য করেন, দর্শকাসনের অনেক চেয়ারই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এত কম মানুষের উপস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'এখানে বসে আমি অনেক সাঁওতালি মানুষকে বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি। এত চেয়ার ফাঁকা কেন? মনে হচ্ছে যেন কেউ তাঁদের এখানে আসতে বাধা দিচ্ছে। যখন আমি মাঠ এবং ব্যবস্থা দেখি, তখন আমার মনে হয় সাঁওতালি সম্প্রদায়ের এত বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশে সকলের খোলাখুলি অংশগ্রহণ করা উচিত। কারা সাঁওতালদের আটকাতে চাইছে? কারা চায় না সাঁওতালরা একজোট হোক? শিক্ষিত হোক?"
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে সরাসরি বিধাননগরে চলে যান, যেখানে প্রথমে সভা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন। সেখান থেকেই বলেন, আমি তো এই এলাকাতেই সভা করতে চেয়েছিলাম। পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। কিন্তু কেন রাজ্য সরকার আমাকে সভা করতে দিল না? এখানে (বিধাননগরে) অনুষ্ঠান হলে ভাল হত। এখানে অনেক জায়গা, অনেক মানুষ আসতে পারতেন। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন কেন জানি না, এখানে সভার অনুমতি দেয়নি। এমন জায়গায় আজকের অনুষ্ঠান হচ্ছে, এখানে মানুষের আসা কঠিন। রাজ্য সরকার মনে হয় আদিবাসীদের ভাল চায় না, তাই এখানে তাঁদের আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। যাই হোক, এটা ব্যাপার নয় কোনও। আপনার সকলে ভাল থাকবেন।"
গোটা ঘটনার বিষয়ে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, "রাজ্যের তরফে আমি রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাই। ডিএম এবং পুলিশ কমিশনার ছিলেন। এর আগেও প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তাঁকে স্বাগত জানাই। কিন্তু তখন আমি মন্ত্রী ছিলাম নাকি মেয়র ছিলাম তা খেয়াল নেই। রাজ্যের এই তালিকা রাষ্ট্রপতি ভবন অনুমোদন দিয়েছিল। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেই সভাস্থল নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল।"
