সম্পত্তি বেআইনি ভাবে দখলদারির প্রতিবাদে বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) এবার নোটা-তে (NOTA) ভোট দেওয়ার কথা জানাল ক্যালকাটা হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাড়িওয়ালা সমিতি (Calcutta House Owners Association)। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার রক্ষিত জানিয়েছেন যে তাঁরা সংগঠনের সব সদস্যসের নোটা-তে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাবেন।
সম্পত্তি বেআইনি ভাবে দখলদারির প্রতিবাদে বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) এবার নোটা-তে (NOTA) ভোট দেওয়ার কথা জানাল ক্যালকাটা হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাড়িওয়ালা সমিতি (Calcutta House Owners Association)। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার রক্ষিত জানিয়েছেন যে তাঁরা সংগঠনের সব সদস্যসের বিধানসভা নির্বাচনে নোটা-তে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাবেন। এই সিদ্ধান্তের পিছনে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভকেই কারণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। দি ক্যালকাটা হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবার ২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নোটা ভোটের ডাক দিয়েছে। সংগঠনের কলকাতাতেই ৫ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই বিধানসভা নির্বাচনে নোটা-তে ভোট দেওয়ার আবেদন জানানো হবে। এছাড়াও, সংগঠনের বাইরেও যে সমস্ত বাড়িওয়ালা রয়েছেন, তাঁদেরও অনুরোধ করা হবে। সারা বাংলাতেই এই ডাক দেওয়া হয়েছে।
সম্পত্তি জবরদখলের প্রতিবাদেই এই নোটা ভোটের ডাক দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, বিধবার সম্পত্তি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কোথাও তারা নিজেই এতে যুক্ত থাকছে। কোথাও ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করে নেওয়া হয়েছে। বাড়িওয়ালা এক পয়সাও পাচ্ছেন না। সারা বাংলায় এরকম অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।
এছাড়াও রেন্ট কন্ট্রোলে সারা বাংলায় ২৭০০ কোটি টাকা জমা পড়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সুকুমারবাবু। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার সেই টাকা বাড়িওয়ালাদের দিচ্ছে না। আমরা উল্টে পকেট থেকে ট্যাক্স দিচ্ছি। শুধু কলকাতা পুর এলাকাতেই প্রায় ৩৫ হাজার ভাড়াটিয়া প্রতি মাসে ভাড়ার টাকা রেন্ট কন্ট্রোলে জমা করেন বাড়িওয়ালার সঙ্গে মামলা অথবা অন্যান্য বিবাদ থাকায়। রেন্ট কন্ট্রোল থেকে ভাড়ার টাকা উদ্ধার করতে বাড়িওয়ালাদের জুতোর সুখতলা ক্ষয়ে যায়৷ রেন্ট কন্ট্রোলের বিষয়টি রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আওতাধীন। পশ্চিমবঙ্গে 'রেন্ট কন্ট্রোল' মূলত বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার সম্পর্ক, ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ এবং উচ্ছেদ নিয়ন্ত্রণ করে। ভাড়াটিয়া চাইলে রেন্ট কন্ট্রোলারের কাছে ভাড়া জমা দিতে পারেন, যদি মালিক তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। সঠিক কারণ ছাড়া (যেমন- নির্দিষ্ট সময়ের বেশি ভাড়া বকেয়া, নিজের প্রয়োজন) বাড়িওয়ালা কোনও ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে পারেন না। আইন অনুযায়ী বছরে কতটা ভাড়া বাড়ানো যাবে তার একটি সীমা নির্ধারিত থাকে, মালিক চাইলেই ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াতে পারেন না।
সুকুমারবাবুর আরও অভিযোগ, বাড়িওয়ালাদের উপরে ভাড়াটেরা দীর্ঘদিন ধরেই অমানুষিক অত্যাচার করছে। বস্তির ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালারা মামলা করতে পারছেন না। কোনও কোনও বাড়ির ক্ষেত্রে মাত্র ৩০ টাকা ভাড়া দেওয়া হয়। সেটাও আবার ইচ্ছা হলে দেয়, ইচ্ছা না হলে দেয় না। প্রতিবাদ করলে থানায় গিয়ে, পার্টি অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানাচ্ছে। ৩০ টাকা ভাড়া পেয়ে বাড়িওয়ালারা কীভাবে বাড়ি সারাবে?
