২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে গোটা দেশে ঝড় তুলেছিল 'চায়ে পে চর্চা'। সাধারণ এক কাপ চা-ই যে ভোট বাক্সে বিপুল সাফল্য এনে দেওয়ার চাবিকাঠি হতে পারে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে তা হাতেনাতে বুঝেছিল দেশবাসী। 'চায় পে চর্চা'-র সাফল্যের কৃতিত্ব যাঁকে দেওয়া হয়, সেই প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শেই এবার নতুন প্রচার কৌশল শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার নাম 'দিদিকে বলো'। 

এখানেই প্রশ্ন উঠছে, 'চায় পে চর্চা'-র মতোই কি সফল হবে 'দিদিকে বলো'? নাকি কাটমানির মতো ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে তৃণমূলের দিকেই। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'চায় পে চর্চা'-র সঙ্গে  'দিদি দুটো ক্ষেত্রে মৌলিক একটি পার্থক্য আছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর নতুন নেতৃত্বকে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু এক্ষেত্রে কাজটা আরও একটু কঠিন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ  এবার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দল এবং নেতাদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার। 

আরও পড়ুন- আম জনতার নালিশ শুনবেন মমতা, প্রশান্তের দাওয়াই এবার 'দিদিকে বলো'

এর পাশাপাশি বেশ কিছু প্রশ্নও উঠছে নতুন এই প্রচার কৌশল নিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর মতে, কাটমানির মতোই ব্যুমেরাং হতে পারে 'দিদিকে বলো'। কারণ অভিযোগ জানানোর জন্য একটি ফোন নম্বর থাকছে। তার অপব্যবহার করতেই পারেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা বা সমর্থকরা। ঠিক যেভাবে দুর্নীতি বন্ধে মমতার দেওয়া কাটমানি দাওয়াইকে হাতিয়ার করে পাল্টা বিক্ষোভ, আন্দোলনে নেমেছে বিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলি। 

 শুধু তাই নয়, শাসক দলের বহু নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তাতে গ্রামে গিয়ে রাত কাটালেও তা কতটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্বনাথবাবু। গোটা বিষয়টাই সাধারণ মানুষের কাছে 'অভিনয়' বলে মনে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সবমিলিয়ে নতুন এই প্রচার কৌশল তৃণমূলকে কতটা সাহায্য করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই রাজনৈতিক মহলে।