ভোটের ডিউটি আসায় মানসিক চাপে আত্মঘাতী হলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরিকালচার বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী।  রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরিকালচার ল্যাবরেটরির ভেতরেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই বিভাগের কর্মী সুধীর সরকার। 

আরও পড়ুন, আজ সারাদিন আকাশ মেঘলা, বৃষ্টির দেখা মিলবে কি, কী বলছে হাওয়া অফিস 

এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে।  দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠানোর পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।  সেরি ল্যাব কর্মী সুধীর সরকারের অস্বাভাবিক এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। 

আরও পড়ুন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যপিত্তের হেঁশেলে আগুন, শনি-রবি প্রতিবাদ মিছিল তৃণমূলের  

 

রায়গঞ্জ শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরিকালচার বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সুধীর সরকারের গতকালই বিধানসভা ভোটের থার্ড পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগপত্র আসে। তারপর থকেই হাই সুগারের রোগী সুধীর সরকার  মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সুধীর বাবুর ছেলে শুভঙ্কর সরকার জানান, ভোটের ডিউটির কাগজ আসার পর থেকে খুব টেনশনে ছিলেন তিনি। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বেলা ১০ টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেড়িয়ে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের কর্মস্থলে আসেন। বিকেল পাঁচটা সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাড়ি ফিরে যান।   রাত্রি আটটা বাজলেও বাড়ি ফিরে না আসায় ছেলে শুভঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিতে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীকে সাথে নিয়ে সেরি ল্যাবে গিয়ে দেখেন দরজা খোলা এবং ঘরে আলো জ্বলছে। ঘরে ঢুকতেই দেখতে পান ঘরের সিলিংএর সাথে লোহার হুক লাগিয়ে তার সাথে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে রয়েছেন সুধীর সরকার। 

আরও পড়ুন, 'দিদিকে উচ্ছেদ নয়, বাংলায় পরিবর্তন আনাই উদ্দেশ্য', জোট ছাড়াও একাধিক জট ছাড়ালেন শাহ 


বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী তপন নাগ জানিয়েছেন,  খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। ভোটের ডিউটি আসার পর থেকেই টেনশনে ছিলেন তিনি। দু-একজনকে নাম কাটাবার জন্য বলেও ছিলেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারী তাঁর ট্রেনিং ছিল। তার আগেই মানসিক অবসাদে ভুগে এই ঘটনা ঘটিয়ে ফেললেন তিনি। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরিকালচার বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সুধীর সরকারের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী মহলে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।