আন্তর্জাতিক বুদ্ধ পিস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ মঞ্চে Recruitment Mantra "Best Recruitment Agency in West Bengal" সম্মানে ভূষিত হল। প্রতিষ্ঠাতা অর্ঘ্য সরকার এই সম্মান গ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক বুদ্ধ পিস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ মঞ্চে এক গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। রবীন্দ্র তীর্থ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে “Best Recruitment Agency in West Bengal” সম্মানে ভূষিত হল Recruitment Mantra। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী শ্রী দিলীপ ঘোষের হাত থেকে এই আন্তর্জাতিক সম্মান গ্রহণ করেন Recruitment Mantra-র প্রতিষ্ঠাতা ও মানব সম্পদ বিশেষজ্ঞ অর্ঘ্য সরকার।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চাকরিপ্রার্থীদের বিনামূল্যে চাকরির সুযোগ করে দেওয়া, যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বিভিন্ন সংস্থাকে Recruitment Process Outsourcing (RPO) পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এই সম্মান প্রদান করা হয়। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে Recruitment Mantra ইতিমধ্যেই একটি বিশ্বাসযোগ্য ও পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি, বিধায়িকা পাপিয়া অধিকারী, অ্যাডভোকেট প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল, ড. শতরূপা সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিল এক আনন্দঘন কেক কাটার পর্ব, যেখানে অতিথি, পুরস্কারপ্রাপক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও সম্প্রীতির আবহ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাননীয় মন্ত্রী শ্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “মৈত্রী পিস ফাউন্ডেশনের এই ধরনের আন্তর্জাতিক বুদ্ধ শান্তি পুরস্কার আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আজ মানুষ স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারছে এবং নিজেদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে পারছে, এটাই প্রকৃত শান্তির পরিচয়।”

তিনি আরও বলেন, “সমাজে আইন-শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। যুব সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এই ধরনের উদ্যোগ সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

সম্মান গ্রহণের পর অর্ঘ্য সরকার বলেন, এই পুরস্কার তাঁদের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং যুব সমাজকে সঠিক ক্যারিয়ার গাইডেন্স দেওয়ার লক্ষ্যে Recruitment Mantra কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

এদিন কর্মসংস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যও করেন অর্ঘ্য সরকার। তাঁর মতে, নতুন সরকার গঠনের পর পশ্চিমবঙ্গের চাকরির বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী ২০২৬–২৭ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন শিল্প, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিকাঠামো, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল পরিষেবা ক্ষেত্রে নিয়োগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

অর্ঘ্য সরকারের কথায়, “যেকোনো শিল্পপতি বা ব্যবসায়িক সংস্থা বিনিয়োগের আগে স্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলা, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বিচার করে। সরকার যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের উপর।”

তিনি আরও জানান, কলকাতার সল্টলেক সেক্টর ফাইভ ও নিউটাউন আগামী দিনে পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ হাব হিসেবে উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে Artificial Intelligence (AI), Cloud Computing, Full Stack Development, Cyber Security, Digital Marketing এবং BPO সেক্টরে নতুন নিয়োগের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।

শুধু কলকাতাই নয়, হাওড়া, দুর্গাপুর, হলদিয়া, শিলিগুড়ি, খড়গপুর ও ডানকুনির মতো এলাকাতেও শিল্প ও লজিস্টিকস বৃদ্ধির ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও মত তাঁর।

উল্লেখ্য, অর্ঘ্য সরকার একজন TEDx Speaker, ‘Recruitopia’-র Author এবং মানব সম্পদ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়োগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। কর্মসংস্থান ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিমধ্যেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্প বিনিয়োগ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং কর্মসংস্থানমুখী নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল চাকরির বাজার হিসেবে উঠে আসতে পারে। এখন দেখার, সেই আশার আলো বাস্তবে কতটা বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।