আপাতত মহার্ঘ্য পেঁয়াজ। আর তাই হোটেলের মেনুতে কাঁটছাট। হোটেলের মধ্যে রীতিমতো নোটিশ দিয়ে কোনও কোনও হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিলেন, "পেঁয়াজ চাহিয়া লজ্জা দেবেন না।"

গোটা রাজ্যের মতোই শিলিগুড়িতেও পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া। কেজি প্রতি পেঁয়াজ বিকোচ্ছে আশি থেকে একশো টাকায়। এই অবস্থায় গৃহস্থের মতোই হোটেল, রেস্তোরাঁর রান্নাঘরেও পেঁয়াজের আমদানি কমেছে। দামের সঙ্গে পেরে না উঠে শিলিগুড়ি শহরের অনেক রেস্তোরাঁই বিভিন্ন পদ বা থালি থেকে পেঁয়াজ বাদ দিচ্ছে। খাওয়ার সময় অতিরিক্ত পেঁয়াজ চাইলেও তা মিলছে না।

আরও পড়ুন- মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা কেন্দ্রের

হোটেল রেস্তোরাঁর মালিকপক্ষ হাত জোর করে বিনম্র আবেদন করছেন, "পেঁয়াজ চেয়ে লজ্জা দেবেন না।" পুজোর মরশুমে সব হোটেল, রেস্তোরাঁতেই ভিড় বাড়ে। সেখানে গ্রাহকদের চাহিদামতো পেঁয়াজ না দেওয়া নিয়ে অশান্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না হোটেল, রেস্তোরাঁর মালিকরা। সববুঝেও অবশ্য অসহায় তাঁরা। 

হোটেলে দাম দিয়ে খাবার কিনে পেঁয়াজ না পেয়ে স্বভাবতই হতাশ ক্রেতারাও। সপরিবারে হোটেলে খেতে যাওয়া মিনতি দেবনাথ বলেন, 'পাতে পেঁয়াজ না থাকলে খাবারে মন বসে না। হোটেল মালিকের কাছে বহুবার চেয়েও পেঁয়াজ মিলছে না। বাড়িতেও অবশ্য পেঁয়াজ খাওয়া কাটছাঁট করতে হচ্ছে।' 

পেঁয়াজের দর ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার জেরে পেঁয়াজের রপ্তানিতে ইতি টানার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তার পরেও অবশ্য পেঁয়াজের দাম কমেনি। যার জেরে সমস্যায় সাধারণ মানুষ। 

শিলিগুড়ির এক রেস্তোরাঁর মালিক পরশুরাম বর্মণ বলেন, 'পেঁয়াজের দর ক্রমেই বাড়তে থাকার জেরে আপাতত নোটিশ লাগানো হয়েছে। বাড়তি কাঁচা পেঁয়াজ দেওয়া হচ্ছে না ক্রেতাদের। গ্রাহকরা এ নিয়ে অভিযোগ করলেও আমরা নিরুপায়। আমরা চাই পেঁয়াজের দাম কমুক। যাতে অন্তত সবার পাঁতে এক টুকরো হলেও পেঁয়াজ তুলে দিতে পারি।'

রেস্তোরাঁ মালিকদের যুক্তি, পেঁয়াজের দাম তুলতে গেলে খাবারের দাম সামান্য হলেও বাড়াতে হবে। কিন্তু তাতেও আপত্তি করেন অনেক ক্রেতা। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে আপাতত খাবারের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ দেওয়া বন্ধই রাখছেন তাঁরা।