বাইসনের পর এবার গাড়ির ধাক্কায় জখম গণ্ডার। ঘটনাটি ঘটেছে ডুয়ার্সের মেটেলি ব্লকের চালসা এলাকায়। ভোরে নাগরাকাটার ৩১সি জাতীয় সড়কে চাপরামাড়ির অভয়ারণ্যের অন্তর্গত পানধোড়ার জঙ্গলের কাছে একটি বাস ধাক্কা মারে গণ্ডারটিকে। 

আহত গণ্ডারটি এরপর তাণ্ডব শুরু করে লোকালয়ে। গণ্ডারের দাপাদাপিতে চালসা, মহাবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আহত গণ্ডারটিকে গোরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের চন্দ্রচূড় ওয়ার টাওয়ারের কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। 

চালসার মহাবীর বস্তির বাসিন্দা হেমা লামা জানান, সকালে ঘুম থেকেই উঠেই বাড়ির বাইরে গণ্ডারটিকে ছুটে বেড়াতে দেখি। আমার বাড়ির বাঁশের বে়ড়া ভেঙ সেটি চলে যায় স্টেশনের দিকে। 

আহত গণ্ডারটি স্ত্রী গণ্ডার বলে জানাচ্ছেন বন্যপ্রাণী বিভাগের উত্তরবঙ্গের মুখ্এয বনপাল উজ্জ্বল ঘোষ। এদিকে গণ্ডারটিকে কাবু করতে গিয়ে উল্টে তাড়া খেয়ে জখম হন চাপমারির বিট অফিসার সুরজিত উরাও। 

মহাবীর বস্তির বাসিন্দা বসন্ত লামা জানান, জখম গণ্ডারটি পালাতে গিয়ে একটি বোলেরো গাড়িতে ধাক্কা মারে। যাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাড়িটি। এই ঘটনায় চালসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও বেলা বাড়তেই গণ্ডারটি গরুমারার জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। 

গণ্ডারটিকে শেষবার চন্জ্রচুড় টাওয়ারের কাছে দেখা গেছে। বনদফতর তাকে পর্যবেক্ষণে রাখতে ৩টি কুনকি হাতি পাঠিয়েছে। গণ্ডারটিকে ঘুমপাড়ানি গুলি করে কাবু করে তার চিকিৎসার চেষ্টা চলছে। 

পরিবেশপ্রেমী মানবেন্দ্র দে সরকার দানাচ্ছেন, চালসা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রক্তের ছোপ দেখে বোঝা যাচ্ছে গণ্ডারটি মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছে। এদিকে যেবাসটি গণ্ডারটিকে ধাক্কা মারে তাকে চিহ্নিত করা গেছে। বাসটির চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।