শেষপর্যন্ত তাহলে হুঁশ ফিরল রেলের! ভবঘুরেদের এবার নিজে হাতে খাবার পরিবেশন করলেন আরপিএফ জওয়ান ও আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, স্টেশনের শেডে নিচের তাঁদের খাওয়ানোর বন্দোবস্তও করে দিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাটে।

আরও করোনা মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, আরামবাগ শহরের প্রবেশপথে বসল লকগেট

রামপুরহাট শহরে ভবঘুরের সংখ্যা দুশোরও বেশি। বছরভর ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন চলে তাঁদের। কিন্তু লকডাউনে বাজারে সে উপায়ও নেই। ভবঘুরেদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের দুটি সংগঠন। প্রথম দিন থেকেই  রামপুরহাট স্টেশনের বাইরে খোলা আকাশের নীচে চলছিল খাওয়া-দাওয়া। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। খাবারের সঙ্গে মিশে যায় পাখির বিষ্টাও! অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন। লকডাউনে কারণে এখন ট্রেন চলাচল বন্ধ, স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় নেই। ঠিক হয়, টিকিট কাউন্টারের সামনে ঘেরা জায়গায় ভবঘুরেদের খাওয়ানো হবে। মৌখিক প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যান স্টেশন ম্যানেজার পুষ্কর কুমার। মধ্যাহ্নভোজের জন্য রেলের জায়গায় ব্যবহার করার অনুমতি দেন তিনি। কিন্তু কর্তব্যরত আরপিএফ জওয়ানরা বাধা দেন, ফলে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। এক সপ্তাহ পরই ছবিটা বদলে গেল। 

আরও পড়ুন: শুনসান টিকিয়াপাড়া, রাতভর পুলিশি অভিযানে ধৃত ১০

আরও পড়ুন: লকডাউনে হারিয়েছিল কাজ, এবার কৈ মাছ গলায় ঢুকে প্রাণ হারালেন ক্য়ানিং এর আচার ব্যবসায়ী

রামপুরহাট স্টেশনে কর্মরত আরপিএফ-এর ইনস্পেক্টর অমিত কুমার গিরি বলেন,  'এক মাসের বেশি দিন ধরে সাংবাদিক বন্ধুরা খাইয়ে আসছেন। আমি প্রায় প্রতিদিন দেখতে যেতাম। তখনই তাদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করে। সামান্য ভুল বোঝাবুঝির জন্য একটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে আমরা ওদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করি। যেহেতু ওরা ষ্টেশনেই জীবনজীবিকা নির্বাহ করে, সেহেতু আমরা যতদিন পারব সমস্ত কর্মীদের প্রচেষ্টায় খাইয়ে যাব।' আরপিএফ সহযোগিতায় খুশি সকলেই।