সারথি সাইকেল প্রকল্পে ছাত্রীদের সাইকেল দেওয়া হলেও বঞ্চিত ছাত্ররা। সাইকেল না পেয়ে ক্ষোভে পথ অবরোধ করে প্রতিবাদ পড়ুয়াদের। রইল বিস্তারিত।
সারাদিন অপেক্ষা করেও মিলল না সারথি প্রকল্পের সাইকেল। শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল নবম শ্রেণির ছাত্ররা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁচলের নেতাজি মোড়ে অবরোধ করেন ছাত্ররা। ভরসন্ধ্যে বেলা ছাত্রদের বিক্ষোভে রীতিমত যানজট তৈরি হয় মালদায়।
সারথির সাইকেল
খরবা হরিনারায়ণ এগ্রিল হাইস্কুল ও শীতলপুর মোবারকপুর হাইস্কুলের শতাধিক ছাত্র এদিন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। তাদের অভিযোগ, স্কুলের তরফে সাইকেল দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সেইমতো টাকা খরচ করে গাড়ি ভাড়া করে ব্লক অফিসে পৌঁছে সারাদিন অপেক্ষা করেও সাইকেল মেলেনি। এদিন শুধু ছাত্রীদের সাইকেল দেওয়া হয়েছে। অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে। প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর অবরোধ তুলে নেয় ছাত্ররা। প্রশাসন সূত্রে জানাগিয়েছে, একসঙ্গে বেশি সংখ্যক পড়ুয়া থাকায় এদিন সকলকে সাইকেল দেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামী বৃহস্পতিবার বাকি পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়া হবে।
সবুজ সাথী আজ থেকে সারথি
অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া সবুজ সাথি প্রকল্পের নাম বদল করে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সারথি প্রকল্প দিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের ছাত্র-ছাত্রী নির্বিশেষে সকলকেই সাইকেল দেওয়া হবে। হাওড়ায় একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই প্রকল্পের সূচনা করেন।
মমতার সমালোচনা
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগে সাইকেলের যন্ত্রাংশ আনা হত পাঞ্জাব থেকে। সেগুলি এ রাজ্যে এনে জোড়া বা একত্রিকরণ করা হত। অর্থাৎ সাইকেল পুরোপুরি রাজ্যে তৈরি হত না, শুধু জোড়ার কাজটুকু এখানে হত। এই ব্যবস্থার জন্য তিনি প্রাক্তন সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ওই একত্রিকরণের কাজ করতেন প্রাক্তন সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আধিকারিকের পরিবারের আত্মীয়রা। তাঁর কথায়, সেই জায়গা থেকে তিনি প্রকল্পটিকে বার করে এনেছেন। তবে কারা ওই কাজের বরাত পেতেন এবং পাঞ্জাবে কাদের থেকে যন্ত্রাংশ আসত, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনও নাম বা তথ্য প্রকাশ করেননি। ফলে এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূল আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সফরে গিয়ে সরকারি মঞ্চ থেকে নিজে হাতে পড়ুয়াদের সাইকেল দিতেন। কিন্তু সেই সাইকেলের গুণমান নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ ছিল, পড়ুয়াদের হাতে পৌঁছনো সাইকেলের কলকব্জা সহজেই খুলে যেত এবং গুণমান তেমন ভাল ছিল না। প্রকল্পের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ উঠত। অনেক সময় দেখা যেত, প্রচুর সংখ্যক সরকারি সাইকেল কোনও বন্ধ ঘরে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ওভাবে পড়ে থাকায় সেগুলিতে জং ধরে যেত। ফলে পড়ুয়াদের কাছে সময়মতো সাইকেল পৌঁছয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।


