রাজ্য সরকার এবং জুনিয়র চিকিৎসকদের মধ্যে তাঁরা মধ্যস্থতার দায়িত্ব নেবেন না। এ দিন বিকেলে নবান্নে গিয়ে রাজ্য সরকারকে তা স্পষ্ট জানিয়ে এলেন পাঁচ সিনিয়র চিকিৎসক। ফলে সিনিয়র চিকিৎসকদের মাধ্যমে জট কাটানোর যে চেষ্টা করা হয়েছিল, তা ব্যর্থ হল। ফলে এবার চিকিৎসা সংকট কাটাতে নবান্ন কোন পথে হাঁটে, সেটাই এখন দেখার। 

এ দিন বিকেল পাঁচটায় নবান্নে সিনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠকে ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন, এনআরএস হাসপাতালে এসেই মুখ্যমন্ত্রীকেই জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাঁরা নবান্নে যাবেন না। বিকেলের দিকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মুখ্য সচিব মলয় দে এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রাজীব সিংহকে নিয়ে নবান্নে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠক চলাকালীনই ফের শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আসা পাঁচ সিনিয়র চিকিৎসককে ফোন করা হয় মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে। তার পরেই নবান্নে যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়, অভিজিৎ চৌধুরী-সহ পাঁচ সিনিয়র চিকিৎসক। 

নবান্নে গিয়ে মুখ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করেন সিনিয়র চিকিৎসকরা। মুখ্যসচিবকেই তাঁরা জানিয়ে দেন যে, তাঁরা আর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারবেন না। কারণ সরকার তাঁদের মাধ্যেম রফাসূত্র বের করার চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের দিক থেকে তাঁরা কোনও সাড়াই পাননি। 

নবান্ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, 'আমরা কোনও ইতিবাচক সাড়া পাইনি। মুখ্যমন্ত্রী যা করার করবেন। উনি গতকালও দীর্ঘক্ষণ জুনিয়র চিকিৎসকদের জন্য বসেছিলেন। কিন্তু কেউই আসেননি। এর পরে মুখ্যমন্ত্রী যা ভাল বুঝবেন, করবেন।' মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য পরে বলেন, সিনিয়র চিকিৎসকরা যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন। 

এ দিন বিকেল পাঁচটায় নবান্নে সিনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠকে ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা দুপুরেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, এনআরএস হাসপাতালে এসেই মুখ্যমন্ত্রীকেই জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাঁরা নবান্নে যাবেন না। জুনিয়র চিকিৎসকদের অনড় মনোভাবে জেরে সিনিয়র চিকিৎসকরাও নিজেদের এই জটিলতার মধ্যে থেকে সরিয়ে নিলেন।