তারাতলা ব্রেস ব্রিজের কাছে নির্মীয়মাণ গোডাউনের লোহার ছাদ ভেঙে বিপর্যয়। এতে বহু লোক আহত হয়েছেন। জানা গেছে, ভেতরে ৪০-৪৫ জন আটকে পড়েছেন। এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যদিও এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দমকলকর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন।

তারাতলা ব্রেস ব্রিজের কাছে নির্মীয়মাণ গোডাউনের লোহার ছাদ ভেঙে বিপর্যয়। এতে বহু লোক আহত হয়েছেন। জানা গেছে, ভেতরে ৪০-৪৫ জন আটকে পড়েছেন। এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যদিও এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দমকলকর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও দমকলকর্মীদের সহায়তা করছেন। ভারতীয় সেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারও হাতে, কারও মাথায় আঘাত লেগেছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। টিন ও লোহার কাঠামো ভেঙে পড়ে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। তা একটি চা সংস্থাকে লিজ়ে দেওয়া হয়েছিল। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। নির্মাণের সময় এটি ধসে পড়ে। শ্রমিকরা এটি মেরামত করে কাঠামোটি পুনরায় জোড়া লাগানোর চেষ্টায় গুদামের ভেতরে প্রবেশ করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিকট শব্দে পুরো টিনের চালাটি ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বহু লোক আটকে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালেও অনান্য দিনের মতো কাজ চলছিল। ঘটনার আধ ঘণ্টা আগেই লোহার বিম নড়ে যায়, কয়েকটা জায়গায় ভেঙে পড়ে। সেসময়ে সেটা কোনওভাবে ঠিক করে শেডের নীচে ভিতরে ঢুকে আবার গোটা কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন কর্মীরা। তখনই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা টিনের শেড।

বর্তমানে, ক্রেনের সাহায্যে লোহার বিমগুলো কেটে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। লোহা ও কংক্রিট কাটার জন্য গ্যাস কাটার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকর্মীরা উপর থেকে নীচে ছিদ্র করার (ভার্টিক্যাল ড্রিলিং) মাধ্যমে আটকে পড়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ। রয়েছেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, পুলিশের ডিসি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ পিটিআই-কে বলেছেন, "আমরা অবশ্যই দুর্ঘটনার কারণ এবং কোনও অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখব। তবে এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার হল যত বেশি সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা।"

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সচিবালয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে; কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলো হল—১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০ এবং ০৩৩-২২১৪৩৫২৬/২২৫৩৫১৮৫।