পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বড় দাবি অমিত শাহের! তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন পর এ রাজ্যে প্রাণহানি ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে ভোটপর্ব। একইসঙ্গে মাওবাদী সমস্যা নির্মূলের ঘোষণা এবং ২০২৯ সালের মধ্যে দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই বড় দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দীর্ঘদিন পর পশ্চিমবঙ্গে প্রাণহানি ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে বলে তাঁর। বুধবার পুলিশ স্মরণ দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নির্বাচনী হিংসা মোকাবিলায় নিরাপত্তাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি মাওবাদী সমস্যার অবসান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে নির্বাচনী হিংসা নিয়ন্ত্রণের পর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনেও নিরাপত্তাবাহিনী উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। নির্বাচনের সময় একটিও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। যদিও এই বক্তব্যের যাচাই এখানে করা হয়নি। এ দিন দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ২০২৬ সালকে ভারতীয় পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বছর বলে উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ মাওবাদী সমস্যার কবল থেকে মুক্ত হয়েছে। ১৯৮১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মাওবাদী হিংসায় ৩,৬০০-রও বেশি নিরাপত্তাকর্মী শহিদ হয়েছেন এবং প্রায় ১৩,৭০০ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি। শহিদ নিরাপত্তাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে অমিত শাহ বলেন, তাঁদের বলিদান দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশ কখনও ভুলবে না বলেও বার্তা দেন তিনি।

পুলিশ স্মরণ দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ১৯৫৯ সালের ২১ অক্টোবর লাদাখের হট স্প্রিংস এলাকায় চিনা সেনার হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে CRPF-এর ১০ জন কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও স্মরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণেই প্রতি বছর ২১ অক্টোবর পুলিশ স্মরণ দিবস পালন করা হয়। এ ছাড়াও, কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বামপন্থী উগ্রপন্থা প্রভাবিত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি, ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে আগামী তিন বছরে মাদক পাচার ও মাদকের অপব্যবহার রুখতে জোরদার পদক্ষেপের আহ্বান জানান অমিত শাহ।