সন্ধেবেলা রাস্তা থেকে এক যুবতীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায়। আর এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এল ঘাটালের সাংসদ দেবের অফিস সামলানোর দায়িত্বে থাকা এক নেতার ছেলের নাম। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে ওই তৃণমূল নেতার ছেলের নাম উল্লেখ করেনি নির্যাতিতার পরিবার। যদিও ঘটনার পরপরই স্থানীয় তৃণমূল নেতা অলোক আচার্যের ছেলে ক্যাপ্টেন আচার্যকেই ঘটনার জন্য দায়ী করেন নির্যাতিতার মা। পরে অবশ্য এই বক্তব্য থেকে সরে আসেন তিনি। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, ছেলেকে বাঁচাতে ওই তৃণমূল নেতই পুলিশ এবং নির্যাতিতার পরিবারকে প্রভাবিত করছেন। 

অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার ছেলের নাম ক্যাপ্টেন আচার্য। তাঁর বাবা অলোক আচার্য সাংসদ দেবের ডেবরার কার্যালয়ের অফিস-ইন-চার্জ। অলোক আচার্যের অবশ্য দাবি, তাঁর ছেলের নামে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে গণধর্ষণে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

রবিবার রাতে এই গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানার অন্তর্গত রাধামোহনরপুর এলাকায়৷ অভিযোগ, রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবেশী এক দাদার সঙ্গে কথা বলার সময়ে ওই যুবতীকে এসে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। যুবতীর সঙ্গে থাকা যুবককেও বেধড়ক মারধর করা হয়। এর পরে স্থানীয় একটি পাম্প হাউজে ওই যুবতীকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এমন কী, মোবাইলে নির্যাতনের ছবি তুলে তা ছড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রাতে কোনওক্রমে বাড়ি ফিরে ঘটনার কথা পরিবারকে জানান নির্যাতিতা। গোটা ঘটনায় নাম জড়ায় তৃণমূল নেতা অলোক আচার্যের ছেলে ক্যাপ্টেনের। 

সোমবার সকালে এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই ডেবরা থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। নির্যাতিতার মা এবং তাঁর পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন, ক্যাপ্টেন এই কাণ্ডে জড়িত। যদি থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্রে ক্যাপ্টেনের নাম উল্লেখ করেননি তাঁরা। পুলিশও যে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে, তাঁদের মধ্যে ছিলেন না ক্যাপ্টেন। 

বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী অন্তরা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, তৃণমূল নেতার ছেলেকে বাঁচাতে রহস্যজনক ভাবে তাঁর নম এফআইআর থেকে বাদ দিয়েছে পুলিশ। তৃণমূল নেতা অলোক আচার্য অবশ্য ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ সোমবার ধৃতদের মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে তাদের ন' দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্যাতিতার মে়ডিক্যাল টেস্ট করার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে কথা বলে ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।