বাড়িতে পড়ে রয়েছে মায়ের মৃতদেহ। সব জেনেও জমির মাপজোখে ব্যস্ত থাকলেন ছেলেরা। মায়ের প্রতি সন্তানের এমনই অমানবিকতার সাক্ষী থাকল রায়গঞ্জ শহর। শেষ পর্যন্ত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পঞ্চায়েতের সদস্য এবং পুলিশ কর্মীরা। 

মৃত ওই বৃদ্ধার নাম নিয়তি দত্ত। স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন ভোর রাতে রায়গঞ্জের সোহারই মোড় এলাকায় নিজের মেয়ের বাড়িতে মারা যান নিয়তিদেবী। তাঁর স্বামী সাত মাস আগে মারা গিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ নিয়তিদেবীর দুই ছেলে ও  এক মেয়ে রয়েছে। যদিও সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের কারণে নিয়তিদেবীর মেয়ে স্বপ্না দত্তের সঙ্গে দুই ছেলে আশীস ও কমল দত্তের সম্পর্ক নেই। নিয়তিদেবী অবশ্য নিজের মেয়ের কাছেই থাকতেন।
বুধবার সকালে নিজের মাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্বপ্নাদেবী। তিনিই পাড়া প্রতিবেশীদের খবর দেন। খবর যায় দুই ছেলের কাছে। 

অভিযোগ, মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়েও তাকে দেখতে আসেননি দুই ছেলে। মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য খবর দেওয়া হয়নি চিকিৎসককেও।  উল্টে নিয়তিদেবীর দুই ছেলে শ্রমিক ডেকে পারিবারিক জমির মাপজোখ করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। নিজেদের জমির সীমানায় খুঁটি লাগাতে থাকেন তাঁরা। দাদারা না আসায় স্বপ্নাদেবীও মায়ের সৎকারে উদ্যোগী হয়নি। বেলা দুটো পর্যন্ত কাপড় ঢাকা অবস্থায় ওই বৃদ্ধার দেহ পড়ে থাকে। 
ভাইবোনের টানাপোড়েনে বৃদ্ধার দেহ এভাবে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীও অবাক হয়ে যান। তাঁদের থেকেই খবর যায় স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে। আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশও। তারাই বিকেলের পর দেহ নিয়ে সৎকারের ব্যবস্থা করেন। মায়ের শেষযাত্রাতেও অংশ নেয়নি দুই ছেলে। 

নিয়তিদেবীর দুই ছেলের অভিযোগ, তাঁদের বোনের আপত্তিতেই সময়মতো মায়ের চিকিৎসা করানো যায়নি। দাদাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মাকে অবহেলার অভিযোগ করেছেন নিয়তিদেবীর মেয়েও। এই টানাপোড়েনেই মৃত্যুর পরেও দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকল মায়ের দেহ। সভ্য সমাজে মায়ের মৃত্যুর পরেও সন্তানদের এই অমানবিক আচরণে লজ্জায় মুখ ঢেকেছে গোটা রায়গঞ্জ।