প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন মেদিনীপুর শহরের ছাত্র, সৌহার্দ দে ৷ সৌহার্দ মেদিনীপুর শহরের ক্ষুদিরাম নগরের বাসিন্দা ৷সৌহার্দ কে  আর্ট এন্ড কালচার বিভাগে নির্বাচিত করা হয়েছে ৷গত ২২ জানুয়ারি তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে মেল করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী বাল পুরষ্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ৷ তবে দফতর থেকে ঘোষনা পর্যন্ত বিষয়টি গোপনীয়তা বজায় রাখতে বলা হয়েছিল ৷ এই তালিকায় ৩২ জন ছাত্র ছাত্রীদের গোটা ভারতবর্ষ৷ থেকে ৷তাঁরা পুরষ্কার পাবেন ভারত সরকারের কাছ থেকে ।যা প্রতিবছরই প্রজাতন্ত্র দিবসে ঘোষনা করা হয়ে থাকে ৷ এই ৩২ জনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একমাত্র মেদিনীপুর শহরের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র সৌহার্দ্য দে রয়েছে।সৌহার্দ মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমের উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র ৷ সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসকের অফিসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ছাত্র ছাত্রীদের উৎসাহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আরও পড়ুন-আপনি কি জানেন দিলীপ ঘোষের সম্পত্তির পরিমাণ কত, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

সৌহার্দ্যর বাবা শক্তিপ্রসাদ দে মেদিনীপুর কলেজের ইতিহাস বিষয়ের অধ্যাপক। মা জয়তী দে দাস পিড়াকাটা উচ্চবিদ্যালয়ের ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষিকা ৷ বাড়ির একমাত্র সন্তান সৌহার্দ ৷ ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি গল্প বই পড়া, ইতিহাস বিষয়ে কৌতুহল ছিল তাঁর ৷ বাবা-মা দুজনেই ইতিহাসের শিক্ষক শিক্ষিকা হওয়ার কারনে তাঁদের কাছ থেকে ইতিহাসের গল্প শুনে ভারতীয় ইতিহাস বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেছে বেশি ৷ নিজের দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া মানসিককতা তৈরী হয় তখন থেকেই ৷ নিজে হাতে প্রথম ১৩ বছর বয়সে ইংরেজিতে সাইন অফ সুর্যবংশ নামে বই লিখেছে সে ৷ যা কবিতার ছন্দে রামায়ন লেখা ৷ রামের রাজত্ব নিয়ে নাট্য আকারে ইংরেজিতে রচনা- দ্যা ক্রনিক্যাল অফ সুর্যবংশ লিখেছে সে ৷ বিভিন্ন ইংরেজি পত্রিকাতে পুরনো মন্দির,মুঘল বিষয়ের ওপরে লেখালেখিও করেছে সে ৷ ২০২০ তে আইসিএসসি পরীক্ষাতে ৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়েছে সৌহার্দ ৷কলা বিভাগ নিয়ে পড়ার সাথে সাথে তাঁর ভবিষ্যতে লক্ষ্য সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়া ৷  

আরও পড়ুন-অবশেষে সাধারণ ভক্তদের জন্য খুলছে বেলুড় মঠ, তবে এখনও বন্ধ থাকছে আরতি দর্শন

বিষয়টি নিয়ে গর্বিত বাবা শক্তি প্রসাদ দে ৷ ইতিহাস বিষয়ের অধ্যাপক শক্তি বাবু বলেন-আমরা গর্বিত ওর এই জাতীয় পুরষ্কারে সম্মানিত হওয়া নিয়ে ৷ ইতিপুর্বে রয়্যাল এসিয়াটিক সোসাইটি ফেলো হয়েছে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস এর মধ্য দিয়ে ৷তখন থেকেই উত্সাহ পায় ৷ ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন লেখকের ইংরাজী বই পড়তে ভালোবাসতো ৷ পরে রামায়ন মহাভরত নিয়েও চর্চা করেছে ৷ পরে ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়েই বেশি লেখা লেখি শুরু করেছিল ৷ছেলের লক্ষ্য নিজে ইউপিএসসি দিয়ে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেবে ৷ 

মা জয়তী দে দাস জেলার পিড়াকাটা উচ্চবিদ্যালয়ের  ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষিকা ৷ ছেলের সাফল্যে খুশী ৷ সোমবার দুপুর থেকে বিষয়টি জানাজানি হতেই চারদিক থেকেই শুভেচ্ছা বার্তার ফোন সামাল দিতে ব্যাস্ত বাবা- মা দুজনেই ৷সারাদিনে অনেক স্থান থেকেই উপহার শুভেচ্ছা বার্তা এসে গিয়েছে ৷ জেলা শাসকের দফতর থেকেও সম্মানিত করা হয়েছে সোমবার ৷ জয়তী দেবী বলেন- নিজের বিদ্যালয়ের পড়াগুলোকে বেশি মুখস্ত করা বা বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে একটু উদাসীন , তবে অন্য বিষয়গুলোতে বেশি গুরুত্ব দেয় সে ৷ তাই বিদ্যালয়ের পড়ার দিকে লক্ষ্য করতে হয় আমাদের ৷ ছোটো বেলা থেকেই উতসাহী এই সব দিকে লেখা লেখির জন্য ৷