আশিস মণ্ডল, বীরভূম:  নিয়ম রক্ষা করার কথা যাঁরা, তিনি তো নিয়ম ভাঙলেন! শাস্তি দেবে কে? কৌশিক অমাবস্যায় নিষেধাজ্ঞা না মেনে তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢুকে পুজো দিলেন খোদ বীরভূমের পুলিশ সুপার। পরনে সাধারণ পোশাক, মুখে ছিল না মাস্কও! প্রতিবাদ করার সাহস পাননি সেবাইতরা। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ছড়িয়েছে পড়েছে ছবি। 

আরও পড়ুন: কর্মচারীকে আটকে রেখে 'বেধড়ক মার' মালিকের, নেপথ্যে কি ম্যানেজারের কারসাজি

লকডাউনের জেরে মন্দির বন্ধ ছিল প্রায় মাস তিনেক। মাঝে মাস খানেক বিরতি, করোনা আতঙ্কে ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তারাপীঠ। আনলক পর্বে যখন যখন মন্দির খোলা হয়েছিল, তখনই সিদ্ধান্ত হয়, গর্ভগৃহে সেবাইত ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বাইরে থেকে বিগ্রহ দর্শন করতে হবে পূর্ণ্যার্থীদের।  এরপর ১৩ জুলাই রামপুরহাটে মহকুমাশাসকের দপ্তরে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ঠিক হয়, এবার কৌশিকী অমাবস্যায় সাধারণ ভক্ত, এমনকী ভিআইপি-দেরও তারাপীঠ মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু ঘটনা হল, মঙ্গলবার, কৌশিকী অমাবস্যার দিন প্রশাসনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মন্দিরে ঢুকে পড়েছিলেন বেশ কয়েকজন পূর্ণ্যার্থী। সেই দলে ছিলেন খোদ বীরভূমের পুলিশ সুপার শ্যাম সিং-ও। 

আরও পড়ুন: সরকারি দফতরের নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু দুই শ্রমিকের, ১২ ঘন্টার চেষ্টায় মিলল দেহ

সন্ধ্যায় হলুদ পাঞ্জাবী ও সাদা পায়জামা পরে মন্দির চত্বরে যজ্ঞে অংশ গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার। এরপর মাস্ক ছাড়াই গর্ভগৃহে ঢুকে পুজোও দিয়েছেন তিনি। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারাপীঠ মন্দি কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়ের সাফাই, 'কৌশিকী অমাবস্যার কারণে আটদিন মন্দিরের দায়িত্ব ছিল প্রশাসনের। ফলে কারা ঢুকবে, কারা ঢুকবে না, সেই দায়িত্বও প্রশাসনেরই। আমরা কাউকে ঢুকতে বলিনি, ঢোকায়ওনি।' রামপুরহাটের বিধায়ক ও মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'দায়িত্ব পালন করার জন্য পুলিশ সুপার মন্দিরে ঢুকতেই পারেন। এতে বিতর্কের কিছু নেই।'  আর যিনি নিয়ম ভাঙলেন, তিনি কী বলছেন? বীরভূমের পুলিশ সুপার শ্যাম সিং-এর সাফ কথা, দায়িত্ব পালন করার জন্য মন্দিরে গিয়েছিলাম। তারাপীঠ তো আর জেলার বাইরে নয়। আমি থাকতেই পারি।' এখন প্রশ্ন হল, সুপার যদি দায়িত্ব পালন করতেই মন্দির ঢুকেছিলেন, তাহয়ে গায়ে ইউনিফর্ম ছিল না কেন?