করোনা আবহে বাতিল হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এ বছর পরীক্ষা নেওয়া হবে বলা বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিতে পারবে না ভেবে অবসাদে ভুগতে শুরু করেছিল দিনহাটার এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। এই পরীক্ষা দিতে না পারলে আর কোনও স্বপ্নই পূরণ হবে না বলে ভেবেছিল সে। আর সেই অবসাদের জেরেই আত্মঘাতী হল ওই পড়ুয়া। 

করোনা আবহে ইতিমধ্যেই একাধিক বোর্ডের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পড়ুয়াদের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা উচিত নয় বলে জানিয়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর গতকাল সেই একই পথে হেঁটেছে রাজ্য সরকারও। এবছরের মতো বাতিল করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। তবে পড়ুয়াদের মূল্যায়ণ কীভাবে করা হবে তা নিয়ে সাতদিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য্যায়। 

এদিকে এই খবর শোনার পর থেকেই ভেঙে পড়েছিল কোচবিহারের দিনহাটার আটিয়াবাড়ি আম্বালি বাজারের বাসিন্দা বর্ণালী বর্মণ। এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তার। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। তাই তার জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বড় হয়ে বাবাকে সাহায্য করার ইচ্ছে ছিল তার। কিন্তু, বাধ সাধল করোনা। এবছরের মতো বাতিল হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, এরপরই ভেঙে পড়েছিল বর্ণালী। কারও সঙ্গে কথা বলছিল না। চুপচাপ ছিল সে। 

সোমবার রাতে তাকে খেতে ডাকে পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু, তার কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। সন্দেহ হওয়ায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তাঁরা। পরিবারের দাবি, মৃতদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে লাল কালিতে লেখা ছিল, "তোমার সব কাজের দায়িত্ব নিতে পারলাম না বাবা।" খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি পাঠানো হয়েছে।