ইন্ডিয়া জোট অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে 'দিমাগি নকশাল'দের সঙ্গে ছক কষছেন। মঙ্গলবার ঠিক এই ভাষাতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

ইন্ডিয়া জোট অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে 'দিমাগি নকশাল'দের সঙ্গে ছক কষছেন। মঙ্গলবার ঠিক এই ভাষাতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার দাবি করেছেন যে ইন্ডিয়া জোট অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে 'দিমাগি নকশাল' এবং 'আজাদি' স্লোগান দেওয়া লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।

শুভেন্দু ইন্ডিয়া জোট নিয়ে বলেন, "ইন্ডি জোট অনেক আগেই শেষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে কী করতে যাচ্ছেন? তিনি 'দিমাগি নকশাল' আর আজাদি স্লোগান দেওয়া লোকজনের সঙ্গে বসে ছক কষবেন। আমি দিল্লিকে বলব কড়া নজর রাখতে। কোনো দেশবিরোধী শক্তি যেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে না পারে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, মমতার এক হাতে জামাত আর অন্য হাতে 'দিমাগি নকশাল' রয়েছে।

শুভেন্দু আরও বলেন, "জামাত এখন দিমাগি নকশালদের মূল মন্ত্র দিচ্ছে। ওঁর এক হাতে জামাত আর অন্য হাতে দিমাগি নকশাল।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দেবেন। সেখানে বিরোধী নেতারা নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে প্রতিবাদের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। শুভেন্দু অধিকারী রবিবার ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন। তিনি বলেন, যুক্তিসঙ্গত গরমিলের কারণে যে ২৭ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তা সরকারি আধিকারিকরা করেননি, করেছে বিচারব্যবস্থা। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আদালতের ওপরই হামলা চালাচ্ছেন।

শুভেন্দু অধিকারী এএনআই-কে বলেন, "বাংলায় এসআইআর (SIR) নিয়ে বলি, যুক্তিসঙ্গত গরমিলের কারণে ২৭ লাখ নাম বাতিলের কাজটা কোনো সরকারি আধিকারিক করেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট জেলা বিচারকদের নিয়োগ করে, আর সেই জেলা বিচারকরাই নামগুলো বাদ দিয়েছেন। তাই তিনি আসলে বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধেই কথা বলছেন।"

তিনি আরও বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর কাজ, বিশেষ করে যুক্তিসঙ্গত গরমিল খোঁজার কাজটা সরকারি আধিকারিকরা করেননি, করেছে বিচারব্যবস্থা। সুপ্রিম কোর্ট ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে ইআরও (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার)-র থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়। এরপর আদালত সরাসরি জেলা বিচারকদের ওই নামগুলো বাদ দেওয়ার ক্ষমতা দেয়। বিচারব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা মানে বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করা।"

কাঠগড়ায় কমিশন

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর এই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী এসআইআর প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত ও পদ্ধতি নিয়ে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে। তাদের মতে, ওই আপত্তিগুলো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মতবিরোধ ছিল না। কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে।