দলীয় নেতা খুনে নাম না করেই বিজেপি-র দিকে আঙুল তুললেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহত নেতার বাড়িতে গিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, 'বডি সাক্ষী রেখে বলছি, যারা এই কাজ করেছে, তাঁরা ভিতরে ঢুকবে আর বেরোবে না, তার জন্য যা আইনি ব্যবস্থা করার শুভেন্দু অধিকারী তা করবে।'

সোমবার রাতে পাঁশকুড়ার মাইশোরায় নিজের অফিসেই খুন হন পাঁশকুড়ার ডাকসাইটে তৃণমূল নেতা কুরবান আলি শাহ।  রাত দশটা নাগাদ মাইশোরা বাজারে নিজের অফিসে বসেছিলেন পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। সেই সময় পাঁশকুড়া ব্লকে তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতির উপরে হামলা  চালায় দুষ্কৃতীরা। সাতজনের একটি দুষ্কৃতী দল অফিসে ঢুকে ওই তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তরুণ ওই তৃণমূল নেতার। 

খবর পেয়ে এ দিন নিহত নেতার বাড়িতে যান পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করেই স্থানীয় বিজেপি নেতা আনিসুর রহমানের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন শুভেন্দুবাবু। তাঁর দাবি, খুনের মূল দুই চক্রী কারা, ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজে সেই প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। পরিবহণমন্ত্রী বলেন, 'কুরবান জননেতা ছিল। গত লোকসভা ভোটেও এলাকায় দলীয় প্রার্থীকে বিরাট লিড দিয়েছিল। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এখন থেকে রাস্তা পরিষ্কার করতে ওঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। এই কাজের পিছনে কারা আছে, পুলিশ সেই প্রমাণ পেয়েছে। ওই দু' জনকেই সন্ধে ৬.১৫ মিনিটে মেছোগ্রামে আর সন্ধে সাতটার সময় কোলাঘাট ব্রিজে দেখা গিয়েছে। ঝাড়খণ্ড আর খড়্গপুর থেকে ছেলে এনে খুন করানো হয়েছে।' 

বর্তমানে বিজেপি নেতা আনিসুর রহমান বছর দু' য়েক আগে তৃণমূলেই ছিলেন। ২০১৭ সালে পাশকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বিজেপি-তে যোগ দেন তিনি। সেই থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত। এর পর বেশ কিছুদিন জেলবন্দি ছিলেন আনিসুর। মাস ছ' য়েক আগে ছাড়া পান তিনি। আনিসুর রহমান নিজে অবশ্য খুনের অভিযোগ অস্বীকার করে সিআই়ডি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। 

আনিসুরের প্রসঙ্গে নাম না শুভেন্দু বলেন, 'আমি ওনার কোনও কথার উত্তর দেব না। এই ধরনের লোক বাইরে থাকলে যা হওয়ার, তাই হয়েছে। একটা তরতাজা ছেলেকে চলে যেতে হল। আমি আজকে বডি সাক্ষী রেখে বলছি, যারা এই কাজ করেছে, তাঁরা ভিতরে ঢুকবে আর বেরোবে না। তার জন্য যা আইনি ব্যবস্থা করার শুভেন্দু অধিকারী তা করবে।'