সামনে দর্জির দোকান। আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল বেআইনি অস্ত্রের কারবার। হিন্দি ছবির কায়দায় এভাবেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে অস্ত্রের কেনাবেচা চলছিল দক্ষিণ ২৪ পরগণার বকুলতলা থানার অন্তর্গত খোলাখালি অঞ্চলে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বেআইনি কারবারের পর্দা ফাঁস করল পুলিশ। 

পুলিশ সূত্রে খবর, বকুলতলা থানার অন্তর্গত খোলাখালি অঞ্চলের রঘুনাথপুরের বাসিন্দা শওকত মোল্লা দর্জির কাজ করতেন । কিন্তু বাড়িতে সেই কাজের আড়ালেই তার প্রধান ব্যবসা ছিল আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করা। কিছুদিন আগে তার বাড়িতে হানা দিলেও অবশ্য কোনও প্রমাণ না পেয়ে ফিরে আসে পুলিশ।

পুলিশি হানার পরেও অবশ্য কারবার বন্ধ করেনি শওকত। ফের অস্ত্রের কেনাবেচা শুরু করে সে। মঙ্গলবার রাতে বারুইপুর পুলিশ জেলার কর্তাদের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, অস্ত্র নিয়ে মহিষমারি এলাকায় যেতে পারে শওকত। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি স্পেশাল অপারেশন গ্রূপের ওসি লহ্মীকান্ত বিশ্বাস ও বকুলতলা থানার আইসি হাবুল আচার্যের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ বাহিনী ওই এলাকায় ওৎ পেতে বসেছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি আটো-সহ আটক করা হয় শওকত মোল্লাকে। অটোর মধ্যে কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হয় সাতটি লং ব্যারেল পাইপ গান , একটি ছোট পাইপ গান ও একটি সেভেন এমএম পিস্তল। সঙ্গে আরও বেশ কিছু গুলিও পাওয়া যায় শওকতের কাছে।  

বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার রশিদ মুনির খান বুধবার জানান, বহদিন ধরেই শওকত বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি করে জয়নগর, বকুলতলার মতো বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছিল। কোথা থেকে এই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসত, কোথায় তৈরি হতো এবং কোথায় কোথায় কাদের কাছে তার মাধ্যমে সেগুলি পৌঁছে দেওয়া হতো, তা জানতে শওকতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।