আশিষ মণ্ডল, বীরভূম:  বিধি নিষেধের কড়াকড়ি ছিলই, করোনা আতঙ্কে কৌশিক অমাবস্যায় ফের তারাপীঠ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল মন্দির কমিটি। তবে প্রতিবার যেমন হয়, তেমনি এবার রীতি মেনে মন্দির পুজো হবে। ভক্তেরা কিন্তু বিগ্রহ দর্শন করতে পারবেন না।

আরও পড়ুনছ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের, শোকের ছায়া প্রশাসনিক মহলে

করোনা সতর্কতায় প্রায় তিনমাস বন্ধ ছিল তারাপীঠ মন্দির। নিত্যপুজো অবশ্য ছেদ পড়েনি। তবে ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে জারি ছিল নিষেধাজ্ঞা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন পয়সা জুন থেকে মন্দির-মসজিদ-গির্জা খোলার নির্দেশ দেন, তখনও বন্ধ ছিল তারাপীঠ মন্দির। অচলাবস্থা অব্যাহত ছিল আরও বেশ কয়েকদিন। ২০ জুন তৃতীয় দফায় বৈঠকে তারাপীঠ মন্দির খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মতো রথের দিন থেকে খুলে দেওয়া হয় তারাপীঠ মন্দির খুলে যায়। তবে গর্ভগৃহে প্রবেশের অনুমতি ছিল না, বাইরে থেকে বিগ্রহ দর্শন করছিলেন পূণ্যার্থীরা। এবার আর সেই সুযোগ মিলবে না। 

সোমবার রামপুরহাটে মহকুমাশাসকের দপ্তরে রূদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে হাজির ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূম জেলা পরিষদের মেন্টর অভিজিৎ সিংহ, বোলপুর সাংসদ অসিত মাল, জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা, তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়, তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়, সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই কৌশিক অমাবস্যায় মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

আরও পড়ুন: বাড়িতে বেআইনি কাঠ মজুতে অভিযুক্ত অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন, নোটিস জারি বন দফতরের

মন্দির কমিটির সভাপতি  তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, 'কৌশিকী অমাবস্যায় লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হয়। ফলে এই মহামারীর সময় কৌশিকী অমাবস্যায় মন্দির খোলা থাকলে গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারনে মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রীতি মেনে মায়ের পুজো হবে। তবে পুন্যার্থীরা চাইলে তাদের নামে পুজো করা হবে। তবে মায়ের দর্শন করা যাবে না।' শুধু মন্দির বন্ধই নয়, ওই সময় তারাপীঠে কোনএ হোটেল বুকিং নিতে পারবে না বলে জানা গিয়েছে।